Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

পঞ্চগড়ে স্কুলছাত্রীকে অপহরণ-ধর্ষণের অভিযোগ, বিষপানে মৃত্যু

জেলা প্রতিনিধি

১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৫ এএম

পঞ্চগড়ে এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। পরে আসামিদের হুমকি ও মানসিক চাপে ওই কিশোরী কীটনাশক জাতীয় বিষ পান করে বলে পরিবারের অভিযোগ। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় গত রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে অভিযান চালিয়ে মো. সোহেল (২৫) ও মো. রফিকুল ইসলাম ওরফে বাঘা মন্টু (২৩) নামে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার দুজনের বাড়ি পঞ্চগড় সদর উপজেলার ভিতরগড় এলাকার ঝেচুপাড়া গ্রামে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরী পঞ্চগড় সদর উপজেলার শালমারা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। স্কুলে যাওয়া-আসার পথে সোহেল তাকে বিভিন্নভাবে প্রেমের প্রস্তাব ও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ সেপ্টেম্বর রাতে সোহেল ও তার সহযোগীরা কৌশলে ওই স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে একটি বাড়িতে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সেখানে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় এবং বিষয়টি কাউকে না জানাতে হুমকি দেওয়া হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। পরদিন ১১ সেপ্টেম্বর পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরে আসামিদের হুমকি ও মানসিক চাপে ১২ সেপ্টেম্বর সকালে ওই কিশোরী বাড়িতে কীটনাশক জাতীয় বিষ পান করে বলে পরিবারের দাবি।

অসুস্থ অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাতে তার মৃত্যু হয়।

ভুক্তভোগীর বড় ভাই ও মামলার বাদী বলেন, তার ছোট বোনকে কৌশলে অপহরণ করে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়েছে। পরে আসামিদের হুমকির কারণে সে বিষপান করে। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

পঞ্চগড় সদর থানার ওসি (তদন্ত) আশীষ কুমার শীল বলেন, স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। মামলার এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ার পর ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে। মামলার অন্য আসামিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। 

প্রতিনিধি/আরআর