Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

হাসপাতাল চত্বরে গোয়ালঘর: গোমূত্র-গোবরের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

জেলা প্রতিনিধি

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০৫ পিএম

নেত্রকোনায় খালিয়াজুরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চত্বরে সরকারি আবাসিক কোয়ার্টারের পাশে গোয়ালঘর বানিয়ে গরু পালনের অভিযোগ উঠেছে এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে। এতে গো-মূত্র ও বর্জ্যের দুর্গন্ধ ছড়িয়ে হাসপাতাল চত্বরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কোয়ার্টারে বসবাসকারী কর্মচারীরা। হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মচারী ও সেবা নিতে আসা রোগীরাও প্রতিনিয়ত এই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

অভিযোগ উঠেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইপিআই টেকনিশিয়ান আশরাফুল ইসলাম কায়েস গত ছয় মাস ধরে হাসপাতাল চত্বরের পূর্ব পাশে পুরোনো সরকারি কোয়ার্টারসংলগ্ন এলাকায় ছয়টি গরু পালন করছেন। গরু রাখার জন্য সেখানে টিন দিয়ে বানিয়েছেন গোয়ালঘর। পাশাপাশি একটি অংশ বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। হাসপাতাল চত্বরের ভেতরেই গরুগুলোকে ঘাস খাওয়ানো হয়।

হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আবাসিক কোয়ার্টারের একেবারে পাশে গোয়ালঘর তৈরি করায় নিয়মিত গোবর ও গো-মূত্র জমছে। সেখান থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশে। এতে কোয়ার্টারে বসবাসকারী কর্মচারীদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি হাসপাতালের পরিবেশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কোয়ার্টারে বসবাসকারী এক কর্মচারী বলেন, হাসপাতালের ভেতরে যেভাবে গরু পালন করা হচ্ছে, তা দেখে মনে হয় জায়গাটি যেন ব্যক্তিগত সম্পত্তি। কাউকে তোয়াক্কা না করে দিনের পর দিন এভাবে গরু পালন করায় আমরা অতিষ্ঠ।

স্থানীয় বাসিন্দা মোশারফ হোসেন বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও দুর্গন্ধমুক্ত থাকা উচিত। এভাবে হাসপাতাল চত্বরের ভেতরে স্থায়ীভাবে গরু পালন করা ঠিক নয়। গো-মূত্র ও গোবরের দুর্গন্ধে মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

তবে গরু পালনের অভিযোগের বিষয়ে ইপিআই টেকনিশিয়ান আশরাফুল ইসলাম কায়েস বলেন, হাওরে দ্রুত পানি চলে আসায় গরুগুলো রাখার অন্য কোনো জায়গা না থাকায় পরিত্যক্ত কোয়ার্টারের পাশে চালা করে গরুগুলো রাখা হয়েছে।

সরকারি হাসপাতালের ভেতরে ব্যক্তিগতভাবে গরু পালনের অনুমতি আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুই-তিন দিনের মধ্যেই গরুগুলো বিক্রি করে দেব।

দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের ভেতরে গরু পালন করা হলেও বিষয়টি জানতেন না বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আরিফিন আজিম। তিনি বলেন, যেদিকটায় গোয়ালঘর করা হয়েছে, ওই দিকটা হয়তো চোখে পড়ে না। তাই এতদিন খেয়াল করিনি। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অলিদুজ্জামান বলেন, সরকারি জায়গা ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নেত্রকোনার জেলা সিভিল সার্জন ডা. গোলাম মাওলা বলেন, এটা দেখার জন্য সেখানকার কর্মকর্তারা রয়েছেন। অভিযোগ পেলে তারা এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন। তারপরও বিষয়টি আমি খোঁজখবর নিয়ে দেখব।


প্রতিনিধি/এফএ