Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

প্রবাসে পরিবারের স্বপ্ন পূরণের লড়াই থেমে গেল মাটিচাপায়

জেলা প্রতিনিধি

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৭ পিএম

পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে প্রায় তিন বছর আগে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার শরিফুল ইসলাম ফকির। প্রবাসের মাটিতে কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। পাশাপাশি দেশে ফিরে বিয়ে করে নতুন সংসার শুরুর স্বপ্নও ছিল তার। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই কর্মস্থলে মাটিচাপা পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন এই প্রবাসী যুবক।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) মালয়েশিয়ায় কর্মস্থলে কাজ করার সময় মাটিচাপা পড়ে শরিফুল ইসলাম ফকির নিহত হন। তিনি টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নের মধ্যপাড়া এলাকার মো. নজরুল ইসলাম ফকিরের ছেলে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, জীবিকার তাগিদে প্রায় তিন বছর আগে মালয়েশিয়ায় যান শরিফুল। পরিবারের আর্থিক সংকট কাটাতে সেখানে নিয়মিত পরিশ্রম করছিলেন তিনি। প্রতিদিনের মতো সোমবারও কর্মস্থলে কাজে যোগ দিয়েছিলেন। কাজের একপর্যায়ে হঠাৎ মাটিচাপা পড়লে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

স্বজনরা জানান, মৃত্যুর মাত্র এক সপ্তাহ আগেও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা হয়েছিল শরিফুলের। তখন দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরে বিয়ে করার কথা জানিয়েছিলেন। দেশে ফিরে নতুন জীবন শুরুর সেই পরিকল্পনা ঘিরে পরিবারেও ছিল আনন্দের অপেক্ষা। কিন্তু সেই অপেক্ষা এখন পরিণত হয়েছে শোকে।

শরিফুলের পরিবারে দীর্ঘদিন ধরেই নানা সংকট ছিল। তার মেজো ভাই মাত্র সাত বছর বয়সে মারা যান। বড় ভাই প্রতিবন্ধী। ফলে পরিবারের অন্যতম প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছিলেন শরিফুল। পরিবারের স্বচ্ছলতার আশায় বিদেশে গিয়ে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করছিলেন তিনি।

ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে ভেঙে পড়েছেন বৃদ্ধ বাবা মো. নজরুল ইসলাম ফকির। এক সন্তানকে ছোটবেলায় হারানোর পর এবার কর্মক্ষম আরেক সন্তানকে হারিয়ে পরিবারটি যেন আরও অসহায় হয়ে পড়েছে। শরিফুলের আয়ের ওপর নির্ভর করে পরিবারের যে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ছিল, সেখানেও এখন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

শরিফুলের মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে টুঙ্গিপাড়ার বর্ণি ইউনিয়নের মধ্যপাড়া এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। প্রতিবেশী ও এলাকাবাসীর কাছেও শরিফুলের মৃত্যু হয়ে উঠেছে গভীর বেদনার ঘটনা।

পরিবারের স্বপ্ন ছিল প্রবাসের পরিশ্রম শেষে একদিন শরিফুল দেশে ফিরবেন। বিয়ে করে সংসার গড়বেন এবং বাবা-মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে পরিবারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনবেন। কিন্তু কর্মস্থলের মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় জীবন হারিয়ে সেই স্বপ্ন থমকে গেল এক নিমিষেই।

শরিফুলের অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনরা এখন প্রিয় মানুষটির মরদেহ দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন। একই সঙ্গে প্রবাসী শ্রমিকদের কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

প্রতিনিধি/এফএ