Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

ফ্যানে ঝুলছিল ব্যাংক কর্মকর্তার মরদেহ, পাশে চিরকুট 

জেলা প্রতিনিধি

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম

চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর এলাকায় নিজ বাসা থেকে জনতা ব্যাংকের এক কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে তার লেখা একটি চিরকুটও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে খোরশেদবাগ আবাসিক এলাকার ইম্পিরিয়াল আরকিট ভবনের ৬/বি নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মোহাম্মদ আবুল হোসাইন নামের ওই ব্যাংক কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

নিহতের স্ত্রী শারমিন আক্তার হালিশহর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা ও এজাহার দায়ের করেছেন।

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে খাবার শেষে আনুমানিক রাত ১টার দিকে আবুল হোসাইন ও তার স্ত্রী আলাদা কক্ষে ঘুমাতে যান। সোমবার ভোরে ফজরের নামাজের জন্য উঠে স্ত্রী অন্য কক্ষে গিয়ে তাকে দেখতে পান। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর দেন। খবর পেয়ে হালিশহর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

উদ্ধার করা চিরকুটে আবুল হোসাইন গত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা ও মানসিক চাপের মধ্যে থাকার কথা উল্লেখ করেছেন। বিশেষ করে মোহাম্মদপুর জিবি শাখার দায়িত্ব নেওয়ার পর ঋণ দেওয়া-না দেওয়া, বদলি ও বিভিন্ন বিষয়ে চাপের কথা তিনি লিখেছেন।

এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছে পাওনা টাকা আদায় না হওয়ায় আর্থিক সমস্যায় থাকার কথাও চিরকুটে উল্লেখ করেন তিনি।

চিরকুটে ২০২১ সালের একটি চেকসংক্রান্ত ঘটনায় লালদিঘী শাখার তৎকালীন ব্যবস্থাপক হিসেবে তার ও কয়েকজন সহকর্মীর বিরুদ্ধে সম্প্রতি একটি সিআর মামলা হওয়ার বিষয়েও উল্লেখ করেন আবুল হোসাইন। তিনি দাবি করেন, ওই ঘটনায় তিনি নির্দোষ। মামলার বিষয়টি জানার পর গত দুই-তিন সপ্তাহ ধরে দুশ্চিন্তায় ঘুমাতে পারছিলেন না বলেও চিরকুটে উল্লেখ করেন তিনি।

চিঠির শেষ দিকে পরিবারের সদস্য ও সন্তানদের দেখে রাখার অনুরোধ জানিয়ে তিনি নিজের মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী না করার কথা উল্লেখ করেন এবং সবার কাছে ক্ষমা চান।

হালিশহর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোশাররফ হোসেন মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং উদ্ধার করা চিরকুটের বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

প্রতিনিধি/জেবি