জেলা প্রতিনিধি
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৮ পিএম
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় গরুর গাছের চারা খাওয়া নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে তোতা মিয়া (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ এলাকায় নিয়ে আসা হবে বলে জানা গেছে।
মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম হারুন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহত তোতা মিয়া উপজেলার সমাজ-সহিলদেও ইউনিয়নের মৃত আসজ জামানের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার সন্ধ্যায় তোতা মিয়ার গরু প্রতিবেশী রবি মিয়ার একটি গাছের চারা খেয়ে ফেলে। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে দ্বন্দ্ব হয়। একপর্যায়ে রবি মিয়া কাঁধে করে ধান বহনের জন্য ব্যবহৃত দুই পাশে সূচালো লম্বা ‘বারবাঁশ’ দিয়ে তোতা মিয়ার মাথা ও শরীরে আঘাত করেন। পরে তোতা মিয়া মাটিতে পড়ে গেলে ওই বারবাঁশের সূচালো অংশ তার বুকে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
এতে গুরুতর আহত হন তোতা মিয়া। আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে রোববার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাকে মমেক হাসপাতালে পাঠান। রাত সাড়ে ৯টার দিকে সেখানে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রবি মিয়া পলাতক রয়েছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য পলাশ মিয়া বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় হাওর থেকে বাড়ি ফেরার সময় তোতা মিয়ার গরু রবি মিয়ার একটি গাছের চারা খেয়ে ফেলে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রবি মিয়া তোতা মিয়ার একটি পেঁপেগাছ কেটে ফেলেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে দ্বন্দ্ব হয়। পরে রবি মিয়া ধান বহনের দুই পাশে সূচালো বারবাঁশ দিয়ে তোতা মিয়ার মাথা ও শরীরে আঘাত করেন। একপর্যায়ে বারবাঁশের সূচালো অংশ দিয়ে তার বুকে আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাকে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে মমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেই তার মৃত্যু হয়। তার ধারণা, বুকে সূচালো অংশ বিদ্ধ হওয়ার কারণেই তোতা মিয়ার মৃত্যু হয়েছে।
ওসি হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। আজ বিকেলে ময়মনসিংহে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ বাড়িতে নিয়ে আসা হবে। দাফন শেষে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত রবি মিয়া পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেফতাররে চেষ্টা চলছে।
প্রতিনিধি/এসএস