জেলা প্রতিনিধি
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩২ এএম
হাজারো খবর লিখেছেন তিনি। এবার নিজেই হলেন খবরের শিরোনাম। মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন সাংবাদিক কাজী আশরাফ (৪৫)। সোমবার সকালে জানাজা শেষে নড়াইলের লোহাগড়ায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে লোহাগড়া পৌরসভার মারকাজুল মাদরাসা মাঠে কাজী আশরাফের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে লক্ষ্মীপাশা কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাজায় সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
কাজী আশরাফ নড়াইলের লোহাগড়া পৌরসভার গোপিনাথপুর গ্রামের কাজী শামসুর রহমানের ছেলে। তিনি এশিয়ান টেলিভিশনের লোহাগড়া প্রতিনিধি ছিলেন। পাশাপাশি দৈনিক করতোয়া ও দৈনিক ভোরের দর্পণ পত্রিকায় কর্মরত ছিলেন।
স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে কাজী আশরাফ ও মাহমুদুল হাসান অনিক ব্যক্তিগত কাজে মোটরসাইকেলে করে লোহাগড়া থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। পথে খুলনা-ঢাকা মহাসড়কের ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মনসুরাবাদ এলাকায় পৌঁছালে একটি দোলা পরিবহনের বাসের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়।
এতে কাজী আশরাফ গুরুতর আহত হন। তার সঙ্গে থাকা মাহমুদুল হাসান অনিক সামান্য আহত হন। তাদের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে আশরাফের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার দুপুর ১২টার দিকে তিনি মারা যান। ওই দিন দিবাগত রাত দেড়টার দিকে তার মরদেহ লোহাগড়ার গোপিনাথপুর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়।
সহকর্মীরা বলেন, কাজী আশরাফ দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি শুধু একজন সংবাদকর্মী ছিলেন না, নড়াইলের সাংবাদিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ ও সহকর্মীদের আপনজন ছিলেন। তার মৃত্যুতে স্থানীয় গণমাধ্যম অঙ্গনে শূন্যতা তৈরি হয়েছে।
লোহাগড়া প্রেসক্লাবের সাংবাদিকেরা কাজী আশরাফের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
নড়াইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুর রশিদ লাভলু বলেন, ‘কাজী আশরাফ ছিলেন একজন আদর্শ সাংবাদিক। তার শূন্যতা নড়াইলের সাংবাদিকতায় দীর্ঘদিন অনুভূত হবে। আমরা তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি।’
প্রতিনিধি/এসএস