জেলা প্রতিনিধি
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২১ এএম
খেলার বয়স পেরিয়েছে বহু বছর আগে। তবে ৭০ বছর বয়সেও ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা কমেনি আব্দুল আলি মিয়ার। শৈশব-কৈশোরের সেই ফুটবলপ্রেম ধরে রাখতে তিনি সেগুন কাঠ দিয়ে তৈরি করেছেন বিশ্বকাপ ট্রফির আদলে একটি খাট। ৭ ফুট বাই ৮ ফুটের এই খাট তৈরিতে তার খরচ হয়েছে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা।
রাজবাড়ী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চরলক্ষীপুর তালতলা গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজ মিয়ার ছেলে আব্দুল আলি মিয়া পেশায় কাঠ ব্যবসায়ী। ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি তার গভীর টান। কিশোর বয়সে রাজবাড়ীর রেলওয়ে মাঠ, জেলা স্টেডিয়াম, কলেজপাড়া মাঠসহ বহরপুর, সোনাপুরের বিভিন্ন মাঠে ফুটবল খেলেছেন তিনি।
বয়স বাড়ার সঙ্গে মাঠে গিয়ে খেলার দিন শেষ হলেও ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা কমেনি। সেই ভালোবাসা থেকেই চারজন কারিগরকে নিয়ে চার মাসে তৈরি করেন বিশ্বকাপ ট্রফির আদলে খাটটি।

আব্দুল আলি মিয়া এখন নাতিকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিদিন এই খাটে বিশ্রাম নেন। তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর খাটটি দেখতে তার বাড়িতে স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের আনাগোনা বেড়েছে।
তালতলা গ্রামের প্রতিবেশী মো. মাসুদ মিয়া বলেন, ‘আব্দুল আলি কাকার ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি ভীষণ ঝোঁক ছিল। বৃদ্ধ বয়সে কাঠ দিয়ে এভাবে বিশ্বকাপ ট্রফি বানিয়ে ভালোবাসার প্রমাণ দেবেন, তা আমরা ভাবতেও পারিনি। খাটটি দেখতে সত্যিই রাজকীয়।’
খাটটি দেখতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা মো. কবির বলেন, ‘ফুটবল বিশ্বকাপের সময় মানুষ পতাকা বা জার্সির মাধ্যমে ভালোবাসা প্রকাশ করে। কিন্তু সেগুন কাঠ দিয়ে সাড়ে ৪ লাখ টাকা খরচ করে এত বড় বিশ্বকাপ খাট তৈরি করা বিরল ঘটনা। কারুকাজও খুব সুন্দর।’

নিজের তৈরি খাটের বিষয়ে আব্দুল আলি মিয়া বলেন, ‘চোখ বুজলেই এখনো রাজবাড়ীর সেই রেলওয়ে মাঠ আর সোনাপুর মাঠের দিনগুলো মনে পড়ে। বল নিয়ে ছোটাছুটি, দর্শকের করতালি—এসব শুধু খেলা ছিল না, ছিল আমার নিঃশ্বাস। এখন শরীরে মাঠে নামার শক্তি নেই। কিন্তু ফুটবলের প্রতি ভালোবাসাটা তো আর বুড়ো হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘পেশায় কাঠ ব্যবসায়ী। তাই ভাবলাম, সেগুন কাঠেই আমার সেই ভালোবাসাকে রূপ দিই। চারজন মিস্ত্রিকে নিয়ে চার মাস দিন-রাত পরিশ্রম করেছি। সাড়ে ৪ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। তবে নাতিকে নিয়ে যখন এই খাটে শুই, তখন মনে হয় বিশ্বজয়ের আনন্দ আমার ঘরেই নেমে এসেছে। জীবনের এই সময়ে এর চেয়ে বড় শান্তি আর কিছুতে পাই না।’

ফুটবলপ্রেমী আব্দুল আলি মিয়ার এই ‘বিশ্বকাপ খাট’ এখন শুধু তার ঘরের আসবাব নয়, স্থানীয় মানুষের কাছেও হয়ে উঠেছে কৌতূহলের বিষয়।