Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

বরিশালে সালিশের দুই দিন পর যুবতীর রহস্যজনক মৃত্যু

জেলা প্রতিনিধি

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩০ এএম

প্রেমের সম্পর্কের পর শাখা-সিঁদুর ও মালা বদল করে ধর্মীয় রীতিতে বিয়ে। এরপর তাদের একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। তবে স্ত্রী ও সন্তানকে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান প্রেমিক। এ নিয়ে প্রথম দফা সালিশে স্ত্রী ও সন্তানকে গ্রহণ করে বাড়িতে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। পরে দ্বিতীয় দফা সালিশে সম্পর্ক ছিন্ন করার বিনিময়ে যুবতীকে দেড় লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এর দুই দিন পরই রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে গিতা রানী দাস (৩০) নামে ওই যুবতীর।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়ার পথে গিতা রানীর মৃত্যু হয়। পরে গ্রামবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রাতেই তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

ঘটনাটি ঘটেছে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের ঘেয়াঘাট গ্রামে। গিতা রানী ওই গ্রামের দিনমজুর গোপাল চন্দ্র দাসের মেয়ে।

মৃতের স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দেড় বছর ধরে একই এলাকার লক্ষণ শীলের ছেলে সঞ্জয় শীলের সঙ্গে গিতা রানীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। একপর্যায়ে তারা শাখা-সিঁদুর ও মালা বদল করে ধর্মীয় রীতিতে বিয়ে করেন। প্রায় দেড় মাস আগে গিতা একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। এরপর থেকেই সঞ্জয় গিতা ও তার সন্তানকে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ নিয়ে স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতা ও হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকজন ব্যক্তির উদ্যোগে প্রথম দফায় গ্রাম্য সালিশ বসে। সেখানে গিতা রানীকে স্ত্রী এবং তার নবজাতক কন্যাসন্তানকে মেনে নিয়ে বাড়িতে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সালিশ শেষে সঞ্জয় ও তার পরিবারের সদস্যরা ১৫ দিনের মধ্যে গিতা ও তার সন্তানকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।

তবে পরে ওই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না করে সঞ্জয় আত্মগোপনে চলে যান বলে অভিযোগ ওঠে।

আরও পড়ুন

টিফিন খেয়ে বের হয়ে আর ফেরা হলো না শিশু নাবিলের

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিষয়টি নিয়ে গত ১১ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় দফায় সালিশ বৈঠক বসে। বাটাজোর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আজাদ প্যাদার নেতৃত্বে ওই সালিশ হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। সেখানে সঞ্জয়ের সঙ্গে গিতা রানীর সম্পর্ক ছিন্ন করার বিনিময়ে তাকে দেড় লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

মৃতের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রথম দফায় সঞ্জয় গিতা ও তার সন্তানকে বাড়িতে নেওয়ার আশ্বাস দিলেও তা পালন করেননি। পরে দ্বিতীয় দফার সালিশে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত দেওয়ায় গিতা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।

রোববার বিকেলে অসুস্থ হয়ে পড়লে গিতাকে বাটাজোর সুইজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

তবে গিতার বাবা গোপাল চন্দ্র দাস বলেন, তার মেয়ে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন।

এদিকে বাটাজোর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আজাদ প্যাদা বলেন, ‘এ ঘটনার আমি কোনো সালিশ করিনি। এমনকি এ ধরনের কোনো রায়ও দিইনি।’

গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল বলেন, গ্রামবাসী গিতা রানীর মৃত্যুকে রহস্যজনক দাবি করায় মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য থানায় আনা হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, সোমবার সকালে মরদেহ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

প্রতিনিধি/এসএস