Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

দুই মাসে ভারত থেকে এসেছে সাড়ে ৩ লাখ কেজি ইলিশ

উপজেলা প্রতিনিধি

১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৬ পিএম

দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট দুই মাসে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৬ কেজি ইলিশ মাছ আমদানি করা হয়েছে। ২২টি প্রতিষ্ঠান এসব ইলিশ আমদানি করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন বেনাপোল বন্দরের ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন পরিদর্শক আশওয়াদুল আলম।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, জুলাই মাসে তিনটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ২৯ হাজার ৪৪০ কেজি ইলিশ দেশে আসে। আগস্টে ১৯টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আরও ৩ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৬ কেজি ইলিশ আমদানি করা হয়। দুই মাসে আমদানি করা ইলিশের মোট মূল্য দেখানো হয়েছে ৬ কোটি ৯২ লাখ ৯৪ হাজার ৫১০ টাকা।

এর মধ্যে জুলাই মাসে আমদানি করা ইলিশের মূল্য ছিল ৩৫ লাখ ৪৮ হাজার ৭৯৬ টাকা। আগস্টে আমদানি করা ইলিশের মূল্য ছিল ৬ কোটি ৫৭ লাখ ৪৫ হাজার ৭১৪ টাকা। অর্থাৎ আগস্টে ইলিশ আমদানির পরিমাণ জুলাইয়ের তুলনায় প্রায় ১১ গুণ বেড়েছে।

ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন পরিদর্শক আশওয়াদুল আলম জানান, চলতি অর্থবছরের গত দুই মাসেই বেনাপোল বন্দর দিয়ে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৬ কেজি ইলিশ মাছ আমদানি হয়েছে। আগস্ট মাসে আমদানির পরিমাণ জুলাইয়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ ইলিশ মাছ আমদানি হওয়ায় বেনাপোল, শার্শা, বাগআঁচড়া, নাভারণ ও যশোর বড় বাজারসহ জেলার বিভিন্ন বাজারে মাছটির সরবরাহ বেড়েছে। তবে বাজারে এসব মাছের একটি অংশ ‘মিয়ানমারের ইলিশ’ নামে পরিচিত হওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় আড়তদারের দাবি, মিয়ানমারের ইলিশ ভারত হয়ে বেনাপোল বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। 

তবে ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন কর্মকর্তারা বলছেন, বেনাপোল দিয়ে আসা ইলিশ ভারতীয়। মিয়ানমার থেকে আসা ইলিশ মাছ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশ করে।

এদিকে বৈধ আমদানির পাশাপাশি অবৈধভাবে ইলিশ দেশে প্রবেশের অভিযোগও রয়েছে। গত ২২ জুলাই বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে সাদা মাছের ঘোষণা দিয়ে আনা ১২ কার্টন বা প্রায় ৩৬০ কেজি ভারতীয় ইলিশ জব্দ করে বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

ইলিশ কিনতে আসা আব্দুল আলিম বলেন, দেশি ইলিশ মনে করে একটি মাছ কিনেছিলেন তিনি। পরে খাওয়ার পর স্বাদ ও গন্ধে পার্থক্য বুঝতে পারেন। তার মতে, দেখতে প্রায় একই হওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের পক্ষে দেশি ও বিদেশি ইলিশ আলাদা করা কঠিন। ক্রেতারা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।

ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১ কেজি ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম ওজনের দেশি ইলিশ প্রতি কেজি প্রায় ৩ হাজার ৩০০ থেকে ৩ হাজার ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে ১ কেজি ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম ওজনের কথিত মিয়ানমারের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৪০০ টাকা কেজি দরে। ফলে আকারে বড় হলেও বিদেশি ইলিশের দাম দেশি ইলিশের তুলনায় অনেক কম।

ব্যবসায়ীরা জানান, তুলনামূলক বড় আকারের মাছ কম দামে পাওয়ায় অনেক ক্রেতাই বিদেশি ইলিশের দিকে ঝুঁকছেন। এতে দেশি ইলিশের বিক্রি কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

মাছ ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলাম বলেন, এসব মাছ মিয়ানমার থেকে ভারত হয়ে দেশে আসছে। কম দামের বিদেশি ইলিশ মাছ বাজারে আসায় দেশি ইলিশের চাহিদা কমেছে।

যশোর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. সেলিমুজ্জামান বলেন, ভারত থেকে আমদানি করা ইলিশ মাছ অবশ্যই ঘোষণা দিয়ে বিক্রি করতে হবে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

প্রতিনিধি/এলএ