Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

চাকরির কথা বলে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি, থাইল্যান্ড হয়ে মালয়েশিয়ায় পাচার

জেলা প্রতিনিধি

১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৭ এএম

ভালো কাজের আশ্বাস দিয়ে মানবপাচার চক্রের সদস্যরা জনি খানকে নড়াইলের কালিয়া থেকে টেকনাফে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে মাত্র ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে মাছ ধরার ট্রলারে করে অবৈধ পথে তাকে থাইল্যান্ডে পাচার করা হয়। সেখানে শুরু হয় তার ওপর অমানবিক নির্যাতন।

প্রায় চার মাস থাইল্যান্ডের একটি জঙ্গলে আটকে রেখে জনিকে নির্যাতন করা হয়। এ সময় তার পরিবারের কাছে চার লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। অভাবের সংসারে এত টাকা জোগাড় করতে না পারায় একপর্যায়ে ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আশাই ছেড়ে দেন স্বজনেরা।

মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে পরে জনিকে অন্য একটি চক্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সেখান থেকে অবৈধ পথে তাকে মালয়েশিয়ায় পাঠানো হয়। সেখানেও প্রায় দুই মাস নির্যাতনের শিকার হন তিনি। একপর্যায়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে একটি ক্লিনিকের সামনে অচেতন অবস্থায় তাকে ফেলে রেখে যায় চক্রের সদস্যরা।

দীর্ঘ সাত মাসের দুঃস্বপ্ন শেষে দেশে ফিরেছেন নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পহরডাঙ্গা ইউনিয়নের বাগুডাঙ্গা গ্রামের জনি। তবে দেশে ফিরেও স্বস্তি নেই তার। শরীরজুড়ে নির্যাতনের ক্ষত। এখন পরিবারের চিন্তা, কীভাবে হবে তার উন্নত চিকিৎসা।

জনির বাবা ফোরকান খানের পরিবারের আর্থিক অবস্থা এমনিতেই নাজুক। জরাজীর্ণ টিনের ঘর আর দুই শতক জমিই তাদের শেষ সম্বল। রিকশা চালিয়ে কোনোভাবে সংসার চালান ফোরকান। পরিবারের হাল ধরতে কাজের সন্ধানে ঢাকায় পাড়ি দিয়েছিলেন বড় ছেলে জনি। স্বপ্ন ছিল কাজ করে পরিবারের অভাব ঘোচাবেন। কিন্তু সেই স্বপ্নই তাকে নিয়ে যায় ভয়াবহ দুঃস্বপ্নের পথে।

nara

ফোরকান খান বলেন, কাজ দেওয়ার কথা বলে প্রথমে জনিকে টেকনাফে নেওয়া হয়। সেখানে একটি দালালচক্রের হাতে তুলে দেওয়ার পর মাছ ধরার নৌকায় করে জোরপূর্বক তাকে থাইল্যান্ডে পাচার করা হয়। সেখানে পরিবারের কাছে চার লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা দিতে না পারায় জনির ওপর নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ফোরকান বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। চার লাখ টাকা কোথা থেকে দেব? টাকা দিতে না পারায় ছেলেটাকে মারধর ও নির্যাতন করা হয়েছে। প্রায় চার মাস পর তাকে আবার মালয়েশিয়ায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়।’

জনি জানান, পরিবারের অভাব কিছুটা দূর করার আশায় তিনি ঢাকায় গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে কাজ না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন। এর মধ্যে এক ব্যক্তির মাধ্যমে মানবপাচার চক্রের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ভালো কাজের কথা বলে তাকে টেকনাফে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপরই শুরু হয় একের পর এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা।

আরও পড়ুন

বরগুনায় দুর্ঘটনাকবলিত ট্রলারের ১৪ জেলে পরিবার পেল খাদ্যসহায়তা

জনির স্বজনেরা বলেন, ভালো জীবনের আশায় ঘর থেকে বেরিয়েছিলেন জনি। কিন্তু মানবপাচারকারীদের কারণে তাকে সাত মাস ধরে সীমাহীন নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। তারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেফতারের দাবি জানান। একই সঙ্গে জনির উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা চান তারা।

এ বিষয়ে কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিন্নাতুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ হাইকমিশনের কার্যালয় থেকে তথ্য পাওয়ার পর তা যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। পরে জনি তার পরিবারের কাছে ফিরে এসেছেন। নিয়মের মধ্যে থেকে আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার চিকিৎসার খরচ বহনের ব্যবস্থা করা হবে।

প্রতিনিধি/এসএস