জেলা প্রতিনিধি
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫২ পিএম
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অপতথ্য, গুজব এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ঠেকাতে সাংবাদিকদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেন, সরকারের ভুল-ত্রুটি হলে সাংবাদিকরা অবশ্যই তা তুলে ধরবেন। তবে তা হতে হবে তথ্যনির্ভর ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে। অপপ্রচার বা অপতথ্যের মাধ্যমে নয়। সাংবাদিকদের এআই, তথ্য যাচাই ও অপতথ্য মোকাবিলায় দক্ষ করে তুলতে সারাদেশে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরের আসাদুজ্জামান খান অডিটরিয়ামে সাংবাদিকদের জন্য মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকতা, তথ্য যাচাই ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ক তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সাংবাদিকদের শুধু একটি সনদ দেওয়া হচ্ছে না; তথ্য যাচাই, অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য সম্পর্কে তাদের দক্ষ করে তোলাই মূল উদ্দেশ্য। বাংলাদেশে যেভাবে অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তা বন্ধে সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশের এমন কোনো জনপ্রিয় বা সুপরিচিত ব্যক্তি নেই, যার নামে অপপ্রচার করা হয়নি। মা-বোনদেরও বিভ্রান্তিকর তথ্য ও পরিচয় জালিয়াতির মাধ্যমে হেয়প্রতিপন্ন করা হচ্ছে। এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, অপপ্রচার শুধু সাংবাদিকদের মাধ্যমে হচ্ছে না। অনেকে সাংবাদিক না হয়েও নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছেন। আবার কেউ কেউ এআই ব্যবহার করে মানুষের ছবি বিকৃত করে ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে প্রকৃত সাংবাদিকদেরও দুর্নাম হচ্ছে।
তিনি জানান, প্রকৃত সাংবাদিকদের জন্য দুই বছর মেয়াদি মাস্টার্স কোর্স, এআইভিত্তিক সাংবাদিকতাসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। প্রেস ক্লাবগুলোর মাধ্যমে প্রকৃত সাংবাদিকদের তালিকা সংগ্রহ করে পর্যায়ক্রমে তাদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে।
সাংবাদিকদের কল্যাণে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে বিভিন্ন সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের জন্য আরও সহযোগিতা বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করা হয়েছে। এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়েও প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
নিজের দায়িত্বের এলাকার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, তিনি শুধু ময়মনসিংহ বিভাগের সন্তান নন, সারা বাংলাদেশের মন্ত্রী। মন্ত্রণালয় সারা বাংলাদেশের জন্য কাজ করে। তবে আশপাশের এলাকার মানুষের প্রতি দরদ একটু বেশি থাকা স্বাভাবিক।
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রথম ধাপে ময়মনসিংহ বিভাগ, বগুড়া, ফেনী ও ঢাকার আশপাশের বিভিন্ন জেলায় সাংবাদিকদের এ ধরনের প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব এলাকায় এ কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

দেশের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুর বানিয়ে দেওয়ার মতো মিথ্যা বা অসত্য আশ্বাস সরকার দিতে চায় না। তবে বাংলাদেশকে আরও সুন্দর ও ভালো জায়গায় নিয়ে যেতে সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সবার। রাজনীতিবিদ, প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিকসহ প্রত্যেকেরই দেশের প্রতি দায়িত্ব রয়েছে। সাংবাদিকরা জনগণের কথা তুলে ধরবেন এবং সরকারের ভুল-ত্রুটিও তুলে ধরবেন। তবে তা হতে হবে তথ্যনির্ভর ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে।গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণমাধ্যমে যে স্বাধীনতা বিরাজমান, তা অব্যাহত থাকবে।
রাষ্ট্র ও গণতন্ত্রের স্বার্থে সাংবাদিকদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্র ও অর্থনীতিকে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছিল। ভবিষ্যতে যেন এমন পরিস্থিতি আর ফিরে না আসে এবং গণতন্ত্র অব্যাহত থাকে, সেদিকে সাংবাদিকদের নজর রাখতে হবে।
হোসেনপুরসহ কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের নেওয়া উন্নয়ন কর্মসূচিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে তিনি স্থানীয় মানুষের পাশে থাকারও আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মুকিত সরকার, হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন, হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলামসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিনিধি/জেবি