Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

৭৪ শিশুর ভুয়া জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

জেলা প্রতিনিধি

১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে অস্তিত্বহীন ৭৪ শিশুর জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে মৃত্যু দেখিয়ে ভুয়া জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন করার অভিযোগ উঠেছে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চররমনী মোহন ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা (নিবন্ধন সহকারী) আবুল বাছেরের বিরুদ্ধে। প্রশাসনের অনুসন্ধানে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ার পর তার নিবন্ধন সহকারীর ক্ষমতা প্রত্যাহারসহ আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আবুল বাছের বর্তমানে সদর উপজেলার টুমচর ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত আছেন।

স্থানীয় সরকার বিভাগের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের বিডিআরআইএস (BDRIS) ব্যবস্থায় চররমনী মোহন ইউনিয়নের ৭৪টি অস্তিত্বহীন শিশুর জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে মৃত্যু দেখিয়ে ভুয়া জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন করা হয়েছে। এ ঘটনায় আবুল বাছেরের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের ডেপুটি রেজিস্ট্রার জেনারেল (যুগ্ম সচিব) মো. লুৎফুর রহমানের সই করা ৯ সেপ্টেম্বরের এক চিঠিতে বিষয়টি জানানো হয়। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে ওই চিঠি প্রতিবেদকের হাতে আসে। আবুল বাছেরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের (সমন্বয় ও সংস্কার) সচিব, লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সাতটি দফতরের চিঠিটি পাঠানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আবুল বাছের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে গত ২৭ আগস্ট ঘটনার বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য বিডিআরআইএসে ৭৪টি অস্তিত্বহীন শিশুর জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে মৃত্যু দেখিয়ে ভুয়া জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন করা হয়েছে।

চিঠিতে আবুল বাছেরের নিবন্ধন সহকারীর ক্ষমতা প্রত্যাহার করে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪-এর ৪(১)(গ) ধারা এবং জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বিধিমালা, ২০১৮-এর ১৯(৪) বিধি অনুযায়ী অন্য ব্যক্তিকে নিবন্ধন সহকারীর দায়িত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

ফেসবুকে অবমাননাকর পোস্ট ঘিরে বিক্ষোভ, নীলফামারীর যুবক আটক

এ ছাড়া ভুয়া নিবন্ধনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো হিসেবে ঘোষিত বিডিআরআইএসের তথ্যের শুদ্ধতা নষ্ট করার অভিযোগে আবুল বাছেরের বিরুদ্ধে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪-এর ২১(১) ও ২১(৩) ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। সরকারি কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও অসদাচরণের অভিযোগে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) কর্মচারী চাকরি বিধিমালা, ২০১১-এর ৩৪ বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আবুল বাছের তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘লক্ষ্যমাত্রা পূরণের অতিরিক্ত চাপে ২০২৫ সালের বিভিন্ন সময়ে ৭৪টি জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন করেছি। উক্ত নিবন্ধনগুলো সঠিক নয়। তাই উক্ত নিবন্ধনগুলো বাতিল করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।’

চররমনী মোহন ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক শুভ্রজিত রায় বলেন, ‘বাছের চররমনী মোহন ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ছিলেন। এখন তিনি টুমচর ইউনিয়নে কর্মরত আছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি শুনেছি।’

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা বলেন, ‘অভিযোগটি নিয়ে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ে বাছেরের লিখিত জবাব দেওয়ার কথা ছিল। জবাব দিয়েছেন কি না, তা এখনো আমাদের জানা নেই। রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় থেকে আমাদের কাছে কোনো চিঠি আসেনি। তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেবেন জেলা প্রশাসক। চিঠি এলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রতিনিধি/এসএস