জেলা প্রতিনিধি
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২২ পিএম
বাড়ি থেকে বের হয়ে হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনে এসেছিল শিশু আহম্মদ মিয়া। স্টেশনে এসে ভুল করে একটি ট্রেনে উঠে পড়ে সে। ট্রেন ছুটতে ছুটতে কখন যে হবিগঞ্জ পেরিয়ে ময়মনসিংহে পৌঁছে যায়, তা বুঝতেই পারেনি শিশুটি। অচেনা শহরে একসময় নিজেকে একা পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে সে। তবে শেষ পর্যন্ত রেলওয়ে পুলিশের আন্তরিকতা ও সহযোগিতায় নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরেছে শিশুটি।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সিলেট রেলওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার জান্নাত আফরোজের নেতৃত্বে শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই (নি.) রাশেদ পারভেজ ছায়িম, কনস্টেবল হাবিবুর রহমান ও নাইমুর ইসলাম শিশুটিকে উদ্ধার করে তার মামা মো. মোজাম্মেল হকের কাছে হস্তান্তর করেন।
রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হবিগঞ্জ সদর উপজেলার চক্রমোহনা গ্রামের মৃত বিল্লাল মিয়ার ছেলে আহম্মদ মিয়া কয়েক দিন আগে বাড়ি থেকে বের হয়ে শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনে আসে। সেখানে অসাবধানতাবশত একটি ট্রেনে উঠে পড়ে সে। ট্রেনটি গন্তব্যের দিকে ছুটতে থাকলেও শিশুটি বুঝতে পারেনি এটি তাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে। একপর্যায়ে ট্রেন গিয়ে থামে ময়মনসিংহে।
অচেনা জায়গায় গিয়ে বিপাকে পড়ে যায় আহম্মদ। পরে ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানা পুলিশের সদস্যরা শিশুটিকে উদ্ধার করে। কথা বলে তারা জানতে পারে, শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশন থেকেই ভুল করে ট্রেনে উঠে ময়মনসিংহে চলে এসেছে সে।
বিষয়টি জানানো হয় শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িকে। খবর পেয়ে শিশুটির পরিচয় শনাক্তে তৎপরতা শুরু করেন পুলিশ সদস্যরা। স্থানীয়দের সহযোগিতায় অবশেষে জানা যায় শিশুটির পরিচয় ও পরিবারের ঠিকানা।
শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই (নি.) রাশেদ পারভেজ ছায়িম বলেন, ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানা পুলিশের সহায়তায় বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনযোগে শিশুটিকে আখাউড়া রেলওয়ে থানায় পাঠানো হয়। পরে সিলেট রেলওয়ের পুলিশ সুপার জান্নাত আফরোজের নেতৃত্বে আমরা শিশুটিকে শায়েস্তাগঞ্জে নিয়ে আসি।
তিনি আরও জানান, শুক্রবার শিশুটিকে তার মামা মো. মোজাম্মেল হকের কাছে নিরাপদে হস্তান্তর করা হয়েছে। শিশুটিকে ফিরে পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন স্বজনরা। কয়েকদিনের দুশ্চিন্তা ও উৎকণ্ঠার অবসান ঘটে তাদের। আর পুলিশের আন্তরিক প্রচেষ্টায় অচেনা শহর থেকে নিজের আপনজনদের কাছে ফিরতে পেরে যেন নতুন করে নিরাপত্তার অনুভূতি পেল শিশু আহম্মদ।
প্রতিনিধি/এলএ