জেলা প্রতিনিধি
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৪ পিএম
গাইবান্ধা সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নে দিনের দিশারী মহিলা মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা হাছান আলীর বিরুদ্ধে এক সাবেক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক আচরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে ওই ছাত্রীর পরিবারের সদস্যরা মাদরাসায় গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় স্থানীয় লোকজন তাদের আটকে রাখেন। পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের থানায় নিয়ে যায়।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের পোড়াবাড়ি মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মাদরাসা-সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বোয়ালী ইউনিয়নের পশ্চিম রাধাকৃষ্ণপুর গ্রামের ওই ব্যক্তি শুক্রবার সকালে স্ত্রী, পরিবারের কয়েকজন সদস্য ও তার মেয়েকে নিয়ে মাদরাসা প্রাঙ্গণে যান। মেয়েটি ওই মাদরাসার সাবেক ছাত্রী। এ সময় মাদরাসা এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে স্থানীয় লোকজন তাদের আটকে রাখেন। পরে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে সদর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে ওই ছাত্রীর মা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের থানায় নিয়ে যায়।
মাদরাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রায় এক মাস আগে মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা হাছান আলীর বিরুদ্ধে ওই সাবেক ছাত্রীকে স্পর্শ করার অভিযোগ ওঠে। পরে এ অভিযোগের সূত্র ধরে হাছান আলীর কাছে টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় কয়েক দিন আগে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন বলেও দাবি করেছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ।
অভিযোগের বিষয়ে মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হাছান আলী বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা। ওই ছাত্রীকে তিনি সন্তানের মতো দেখতেন। দরিদ্র পরিবারের হওয়ায় তার কাছ থেকে প্রতি মাসে ৫০০ টাকা কম নেওয়া হতো বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে ছাত্রীর বাবা বলেন, তারা কারও বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করতে আসেননি। কোনো মব বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টাও করেননি। তারা সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চান। প্রতিশোধ চান না। তার মেয়ের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত।
গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমুল হুদা বলেন, স্থানীয়দের হাতে আটক ছাত্রীর পরিবারের সদস্যদের থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। এরপর ছাত্রীর মেডিকেল পরীক্ষা করা হবে।
গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মুত্তাজুল ইসলাম বলেন, ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে তিনিও ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। মেয়ের পরিবারের অভিযোগ থাকায় তাদের থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। থানায় নেওয়ার অন্য কোনো কারণ নেই। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এআর