১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৫ পিএম
আগাম ফুলকপির সবুজে বদলে যাচ্ছে দিনাজপুরের বীরগঞ্জের মাঠ। আগাম বাজারে তুলে বাড়তি লাভের আশায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। অনুকূল আবহাওয়া আর ভালো দামের প্রত্যাশায় এবার বেড়েছে আগাম ফুলকপির চাষ। ফলন আর বাজারদর অনুকূলে থাকলে এ সবজি চাষে হাসি ফুটবে কৃষকের মুখে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বীরগঞ্জ উপজেলায় ৫৯৩ হেক্টর জমিতে ফুলকপি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ১৭০ হেক্টর জমিতে আগাম ফুলকপির চাষ হয়েছে।
গত বছর একই সময়ে আগাম ফুলকপি চাষ হয়েছিল মাত্র ৯২ হেক্টর জমিতে। ফলে গত বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে আগাম ফুলকপির চাষ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার ৯ নম্বর সাতোর ইউনিয়নের প্রাণনগর, দলুয়া, ২৫ মাইল এবং ৮ নম্বর ভোগনগর ইউনিয়নের ভাবকি, বটতলীসহ নিজপাড়া ও পল্টাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ জমিতে আগাম ফুলকপির চাষ হয়েছে।
অনেক জমিতেই ফুলকপির গাছ বেড়ে উঠেছে, আবার কোথাও গাছে ফুল ধরতে শুরু করেছে। কৃষকরা নিয়মিত সেচ, সার প্রয়োগ ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
দলুয়া গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে ফুলকপির ক্ষেতের অবস্থা ভালো আছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী ২০ থেকে ২২ দিনের মধ্যে ফুলকপি বাজারজাত করা সম্ভব হবে।
এই কৃষক বলেন, ‘আশা করছি, বাজারে ভালো দাম পাওয়া যাবে।’
২৫ মাইল এলাকার কৃষক শামীম বলেন, এবার অনেক পরিশ্রম করে চার বিঘা জমিতে আগাম ফুলকপি চাষ করেছি। খরচও হয়েছে বেশ। তবে ফলন ভালো হলে এবং বাজারে ভালো দাম পেলে লাভবান হতে পারব এমনটাই আশা করছি।
কৃষকরা বলছেন, আগাম ফুলকপি বাজারে তুলতে পারলে সাধারণ সময়ের তুলনায় ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ কারণে বাড়তি লাভের আশায় অনেকেই আগাম জাতের ফুলকপি চাষে ঝুঁকেছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম জানান, বীরগঞ্জে চলতি মৌসুমে প্রায় ১৭০ হেক্টর জমিতে আগাম ফুলকপি চাষ হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন। বিশেষ করে সার ও সেচ প্রয়োগ, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ এবং সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা বিষয়ে কৃষকদের কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আগাম ফুলকপির ক্ষেতগুলোর অবস্থা ভালো রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলনও ভালো হওয়ার আশা করা যাচ্ছে। ফলন ও বাজারদর ভালো থাকলে আগাম ফুলকপি চাষ করে কৃষকরা লাভবান হবেন এবং আগামীতে এ চাষ আরও বৃদ্ধি পাবে।
প্রতিনিধি/এএম