জেলা প্রতিনিধি
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২২ পিএম
কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপে নাফ নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ দুই শিশুরই মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজের প্রায় চার ঘণ্টা পর তাদের উদ্ধার করা হয়। এ সময় একজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। অপরজনকে মুমূর্ষু অবস্থায় টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শাহপরীরদ্বীপ জেটিঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত দুই শিশু হলো—শাহপরীরদ্বীপ উত্তরপাড়া এলাকার মোহাম্মদ উল্লাহর ছেলে মোহাম্মদ নিশান (১২) ও একই এলাকার কেফায়েত উল্লাহর ছেলে আরজিন (১০)।
স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার সকালে নিশান ও আরজিন শাহপরীরদ্বীপ জেটিঘাটসংলগ্ন নাফ নদীতে গোসল করতে নামে। গোসলের একপর্যায়ে তারা পানিতে তলিয়ে নিখোঁজ হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলেরা নৌকা নিয়ে নদীর বিভিন্ন অংশে তাদের সন্ধানে তল্লাশি শুরু করেন।
খবর পেয়ে কোস্টগার্ড সদস্যরাও উদ্ধার অভিযানে যোগ দেন। স্থানীয় জেলেদের সহযোগিতায় নদীর বিভিন্ন অংশে প্রায় চার ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চালানো হয়।
পরে দুপুর ২টার দিকে শাহপরীরদ্বীপ বিজিবি বিওপির সামনে নাফ নদীর অংশ থেকে দুই শিশুকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় আরজিনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। আর নিশানকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. মাসুদ আহমেদ বলেন, সকালে নাফ নদীতে গোসল করতে গিয়ে দুই শিশু নিখোঁজ হয়। পরে স্থানীয় জেলে ও বাসিন্দারা তাদের উদ্ধারে তল্লাশি শুরু করেন। একপর্যায়ে দুজনকেই উদ্ধার করা সম্ভব হলেও তারা বেঁচে ছিল না।
টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নুসরাত জাহান জানান, নিশানকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে আনা হলেও হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়। অতিরিক্ত পানি পান করায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানান তিনি।
এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম।
তিনি জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে নাফ নদীতে দুই শিশু নিখোঁজের বিষয়টি জানতে পারেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করা হয়। আরজিনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং নিশানকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/এআর