Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

দিনাজপুরে নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার, গ্রেফতার ১

জেলা প্রতিনিধি

১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৪ পিএম

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে নিখোঁজের চার দিন পর মো. মফিদুল ইসলাম (৪০) নামের এক রাজমিস্ত্রির মরদেহ একটি পরিত্যক্ত টয়লেটের ট্যাংকি থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় মো. মাসুদ মিয়া (২৯) নামের এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা পুলিশ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

গ্রেফতার মাসুদ মিয়া নবাবগঞ্জ উপজেলার মালদহ গ্রামের মো. বেলাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি মফিদুল ইসলামের প্রতিবেশী ও পূর্বপরিচিত।

পুলিশ জানায়, গত ৪ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৮টা ৪০ মিনিটে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর মফিদুল ইসলাম আর ফেরেননি। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান না পেয়ে পরদিন ৫ সেপ্টেম্বর নবাবগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন পরিবারের সদস্যরা। এরপর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তাসহ বিভিন্নভাবে তার সন্ধানে অনুসন্ধান চালায় পুলিশ।

e3c36c31-3a3c-406a-ba24-bd43201e2f39

এর ধারাবাহিকতায় ৮ সেপ্টেম্বর বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে মাসুদ মিয়ার বাড়ির পূর্ব পাশে সেচ পাম্পের টিনশেড ঘরের কাছে একটি পরিত্যক্ত টয়লেট থেকে পচা দুর্গন্ধ পান স্থানীয় লোকজন। সন্দেহ হলে তারা টয়লেটের স্লাব সরিয়ে ভেতরে মফিদুল ইসলামের মরদেহ দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে নবাবগঞ্জ থানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

আরও পড়ুন

ঝিনাইদহে ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা

নিহতের ছোট ভাই মো. লিটন মিয়া বাদী হয়ে নবাবগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্তের পাশাপাশি আসামি গ্রেফতারে অভিযান চালিয়ে মাসুদ মিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদ মিয়া হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৪ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৯টার দিকে মফিদুল ইসলামের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়। পরে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশকে জানান মাসুদ।

পুলিশ আরও জানায়, হত্যার পর মরদেহ গোপন করতে পরিত্যক্ত টয়লেটের ট্যাংকিতে রেখে স্লাব দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। গ্রেফতার মাসুদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বাঁশের লাঠি ও মফিদুল ইসলামের ব্যবহৃত একটি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

পরে মাসুদ মিয়া আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, মামলার তদন্ত চলছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রতিনিধি/এসএস