Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

ভাঙারি ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে অর্থ আদায়, যুবদলের ২ নেতা গ্রেফতার

জেলা প্রতিনিধি

০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১১ পিএম

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় ভাঙারি মালামাল কেনার কথা বলে এক ব্যবসায়ীকে ডেকে নিয়ে জিম্মি করে মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৩ লাখ ২৩ হাজার ৬০০ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় করা মামলায় যুবদলের দুই নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন- ধাওয়া ইউনিয়ন যুবদল নেতা মো. সোহাগ মৃধা ও মো. সোহাগ হাওলাদার। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

মামলার বাদী আসাদুল ইসলাম (৩৫) বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার শিরোখালী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় ভাঙারি ব্যবসায়ী।

মামলা ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার দিকে ভাঙারি মালামাল কেনার উদ্দেশ্যে সুমন নামে এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে দেখা করতে ভাণ্ডারিয়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের ওভারব্রিজ এলাকায় যান আসাদুল ইসলাম। সেখানে পৌঁছে সুমনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ব্যস্ত থাকার কথা জানিয়ে সাগর নামে এক ব্যক্তিকে পাঠান। পরে সাগর তাকে গোডাউনে নেওয়ার কথা বলে উপজেলার ধাওয়া এলাকার গোড়াখাল নামের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান।

আসাদুল ইসলামের অভিযোগ, সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি সন্দেহজনক মনে হলে তিনি মোটরসাইকেল থেকে লাফ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা কয়েকজন তাকে ঘিরে ফেলেন। তাদের মধ্যে ধাওয়া ইউনিয়ন বিএনপির ৩ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান পলাশ কাজী, সাবেক ভাণ্ডারিয়া উপজেলা বিএনপির সদস্য মশিউর রহমান টিটু হাওলাদার, ধাওয়া ইউনিয়ন যুবদল নেতা মো. রুবেল হাওলাদার, মো. সোহাগ মৃধা, মো. সোহাগ হাওলাদার এবং স্থানীয় আরও কয়েকজন ছিলেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী আসাদুলের দাবি, স্থানীয় দোকানদারদের কাছে সাহায্য চাইলে তাকে মারধর করে মোটরসাইকেলের চাবি কেড়ে নেওয়া হয়। পরে তাকে মশিউর রহমান টিটুর বাড়িতে নিয়ে আটকে রেখে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয় এবং শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়।

মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, জিম্মি অবস্থায় আসাদুল ইসলামের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে তাতে অবৈধ মালামালের ছবি পাঠানো হয়। পরে ওই ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ, পাঁচটি ব্যাংক চেক, দুটি এটিএম কার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্র ও নগদ ২২ হাজার টাকা নিয়ে নেওয়া হয়। এ ছাড়া বিকাশ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা এবং নগদ অ্যাকাউন্ট থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা নেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীর দাবি, পরে জোর করে সিটি ব্যাংকের এটিএম কার্ডের পিন নম্বর আদায় করে বুথ থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়। পাশাপাশি মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপের মাধ্যমে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের একটি হিসাবে ১ লাখ ৮৭ হাজার টাকা স্থানান্তর করা হয়। সব মিলিয়ে ৩ লাখ ২৩ হাজার ৬০০ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

ঘটনার পর আসাদুল ইসলাম প্রথমে স্থানীয় থানায় বিষয়টি জানান। পরে পিরোজপুরের পুলিশ সুপার ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছেও লিখিত অভিযোগ দেন। পরবর্তীতে তিনি ভাণ্ডারিয়া থানায় মামলা করেন।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা আত্মগোপনে থাকায় তাদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

ভাণ্ডারিয়া থানার ওসি (তদন্ত) রত্নেশ্বর কুমার মণ্ডল বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। ইতোমধ্যে মো. সোহাগ মৃধা ও মো. সোহাগ হাওলাদারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিনিধি/এমআই