জেলা প্রতিনিধি
০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৬ পিএম
শরীয়তপুরের জাজিরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে তদন্তের নামে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ-সংক্রান্ত অডিও কথোপকথন যাচাই-বাছাই করে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে সাময়িক বরখাস্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শরীয়তপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) জাকারিয়া রহমান।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রায় তিন বছর আগে জাজিরা উপজেলার পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের মালেক শেখের মেয়ে ইতি আক্তারের সঙ্গে জাজিরা পৌরসভার সোনার দেউল এলাকার নূর মোহাম্মদ শেখের ছেলে সাত্তার শেখের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেছেন বলে অভিযোগ করেন ইতি আক্তার।
এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। সর্বশেষ গত ১৭ আগস্ট রাতে পারিবারিক কলহের জেরে তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এরপর গত ৪ সেপ্টেম্বর ইতি আক্তার তার স্বামী সাজ্জাদ শেখসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে পারিবারিক বিরোধ, শারীরিক নির্যাতন ও যৌতুক দাবির অভিযোগ এনে জাজিরা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব পান এসআই রফিকুল ইসলাম।
অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে বাদীপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের পর এসআই রফিকুল ইসলাম ১০ হাজার টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগী নারীর এক নিকটাত্মীয় সৌদি প্রবাসী দুলাল মোড়লের সঙ্গে মুঠোফোনে কথোপকথনের সময় ওই পুলিশ কর্মকর্তা টাকা পাঠানোর জন্য নিজের বিকাশ নম্বর দেন বলে অভিযোগ করা হয়। কথোপকথনটি অডিও রেকর্ড করা হয়।
পরে বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসে। অডিও কথোপকথন যাচাই-বাছাই করে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর গত মঙ্গলবার রাতে এসআই রফিকুল ইসলামকে জাজিরা থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকারিয়া রহমান বলেন, ‘এসআই রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ এসেছিল। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে এসআই রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে, পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
প্রতিনিধি/এএম