জেলা প্রতিনিধি
০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩১ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার হাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান। পাঁচ বছর আগে ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হলেও শ্রেণিকক্ষের সংকটের কারণে বাধ্য হয়ে সেখানেই ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল, পলেস্তারা খসে পড়া এবং দেয়াল ও টিনের জরাজীর্ণ অবস্থায় প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে ক্লাস করছে শিশুরা। ঝড়বৃষ্টি হলে সেই আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। এতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে যেমন শঙ্কা তৈরি হয়েছে, তেমনি ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পাঠদান।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবনটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। পাঁচ বছর আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে। বর্তমানে ভবনের পূর্ব পাশের দেয়াল ভেঙে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। কোথাও দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়েছে, আবার কোথাও টিন ও কাঠের অংশ নষ্ট হয়ে গেছে। বৃষ্টি হলে ভবনের ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হয়। যেকোনো সময় সেখানে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার হরষপুর ইউনিয়নের হাজীপুর গ্রামে ১৯৩১ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে একজন প্রধান শিক্ষক ও পাঁচজন সহকারী শিক্ষক রয়েছেন। প্রাক্-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ২২৭ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে।

প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ২০০৫ সালে বিদ্যালয়ে দুই কক্ষের একটি ছোট ভবন নির্মাণ করা হয়। তবে শিক্ষার্থীর তুলনায় ওই ভবনের শ্রেণিকক্ষ পর্যাপ্ত নয়। শিক্ষার্থী বেশি হওয়ায় পুরোনো ভবনের কক্ষও ব্যবহার করতে হচ্ছে।
শিক্ষকেরা জানান, শ্রেণিকক্ষের স্বল্পতার কারণে নিয়মিত পাঠদান পরিচালনা করতে গিয়ে তাদের নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। একটি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলার সময় বারান্দায় থাকা শিক্ষার্থীদের শব্দে অনেক সময় শ্রেণিকক্ষে থাকা শিক্ষার্থীদের মনোযোগ নষ্ট হয়। আবার বৃষ্টি, রোদ কিংবা শীতের সময় বারান্দায় ক্লাস নেওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও সেই অনুপাতে শ্রেণিকক্ষ বাড়েনি। নতুন শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হলেও এখনো কোনো প্রতিকার মেলেনি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছাদেকুল ইসলাম বলেন, ভবনের সমস্যাগুলোর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ভবনটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হলেও কবে নাগাদ স্থায়ী সমাধান হবে, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।
বিজয়নগর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফর রহমান বলেন, নতুন ভবন নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে তালিকা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে কাজ শুরু করা হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আশিকুর রহমান ভূঞা বলেন, বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবনটি অনেক আগেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাই আপাতত বিদ্যালয়ে একটি অস্থায়ী টিনশেড ঘর নির্মাণ করা যায় কি না, সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রতিনিধি/এআর