জেলা প্রতিনিধি
০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৭ পিএম
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র (ফায়ার এক্সটিংগুইশার) রিফিলের নামে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার কামরুজ্জামান সুমনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে যন্ত্র নিয়ে ড্রাই কেমিক্যাল পাউডার পরিবর্তন না করেই পরিষ্কার করে তাতে ময়মনসিংহের ‘দ্য সেফ মার্ট’ নামের প্রতিষ্ঠানের নকল স্টিকার লাগানো হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, প্রতিটি যন্ত্র রিফিলের জন্য ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হলেও কোনো ভাউচার দেওয়া হয় না। ফায়ার সার্ভিসের লোকজন যন্ত্র নিয়ে গিয়ে রিফিল করে ফেরত দেন বলে তারা জানান।
মোহনগঞ্জ বাজারের ২০–২৫ জন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের অনেকের অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রে ‘দ্য সেফ মার্ট’ লেখা স্টিকার রয়েছে। স্টিকারে রিফিল ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ দেওয়া হলেও কয়েকটিতে রিফিলকারীর স্বাক্ষর নেই।

সরেজমিনে মোহনগঞ্জ পৌরশহরের কয়েকটি ডিজেল-পেট্রোল বিক্রির প্রতিষ্ঠান ও অন্তত ২০টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র দেখা হয়। প্রায় সব কটিতেই ‘দ্য সেফ মার্ট’ লেখা স্টিকার পাওয়া যায়। তবে প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকদের কাছে রিফিলের কোনো ভাউচার পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে অন্তত ১০টি যন্ত্রের স্টিকারের ছবি ‘দ্য সেফ মার্ট’-এর স্বত্বাধিকারী ও ফায়ার সার্ভিসের সাবেক কর্মকর্তা দুলাল মিয়াকে পাঠানো হয়। তিনি দাবি করেন, এর মধ্যে মাত্র দুটি তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে রিফিল করা হয়েছে। বাকিগুলোর স্টিকার তাদের নয়।

দুলাল মিয়া বলেন, “মেয়াদোত্তীর্ণ ড্রাই কেমিক্যাল আগুন নেভানোর ক্ষেত্রে কার্যকর হবে না। কেউ যদি রিফিল না করে এমন স্টিকার লাগিয়ে থাকে, তাহলে তা প্রতারণা।”
মোহনগঞ্জের রাবেয়া এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার আইনুল হক বলেন, দুটি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রিফিলের জন্য নিয়ে গিয়ে ফেরত দেওয়া হয়। এ জন্য ২ হাজার ৪০০ টাকা নেওয়া হলেও কোনো ভাউচার দেওয়া হয়নি। শাহ জালাল (র.) ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক মাহবুব আলম সেলিমও কামরুজ্জামান সুমনের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ করেন।

এ ছাড়া স্থানীয় একটি ডিজিটাল প্রিন্টিং প্রতিষ্ঠান থেকে ‘দ্য সেফ মার্টের’ স্টিকার নকল করে ছাপানোর অভিযোগও উঠেছে সুমনের বিরুদ্ধে। দুই স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেন, তাদের সামনে সুমন ওই স্টিকার ছাপিয়েছেন। এ-সংক্রান্ত একটি প্রিন্ট কপিও তারা প্রতিবেদকের কাছে দিয়েছেন।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কামরুজ্জামান সুমন। তিনি বলেন, “আমরা রিফিল করার জন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র নিই না। যারা রিফিলের বিষয়ে পরামর্শ চান, তাদের অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের কথা বলে দিই। পরে তারা নিজেরাই সেখানে গিয়ে রিফিল করে আনেন।”
নকল স্টিকার ছাপানোর অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, “আমরা কখনো দুই নম্বরি কাজ করি না।”

অভিযোগের বিষয়ে নেত্রকোনা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মো. জাকির হোসেন বলেন, ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা সাধারণত অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রিফিলের বিষয়ে পরামর্শ দেন। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানে গিয়ে তা রিফিল করে।
তিনি বলেন, “অবৈধভাবে স্টিকার ছাপিয়ে রিফিলের নামে প্রতারণা করা অপরাধ। অভিযোগের তথ্য-প্রমাণ পেলে তদন্ত করে দেখা হবে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হবে।”
প্রতিনিধি/এসএস