Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

জনবল সংকটে সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ব্যাহত চিকিৎসাসেবা

জেলা প্রতিনিধি

০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩০ এএম

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসকসহ বিভিন্ন শ্রেণির জনবল সংকট চলছে। ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে অনুমোদিত ৪৫টি চিকিৎসক পদের মধ্যে ২৯টিই শূন্য। চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবলের সংকটে কর্মরতদের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে। এতে বিপুলসংখ্যক রোগীর কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে রোগীদের দীর্ঘ সারি। বিভিন্ন ওয়ার্ডেও রয়েছে রোগীর চাপ। ৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে অনেক সময় নির্ধারিত শয্যার প্রায় দ্বিগুণ রোগী ভর্তি থাকেন। শয্যা না পেয়ে অতিরিক্ত রোগীদের কেউ কেউ মেঝেতে অবস্থান করে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন বহির্বিভাগে গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ রোগীর টিকিট বিক্রি হয়। এর বাইরে জরুরি বিভাগেও চিকিৎসা নিতে আসেন অনেক রোগী। হাসপাতালে বেশির ভাগ সময় প্রায় ১০০ রোগী ভর্তি থাকেন।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. দীপান্বিতা দাস জানান, হাসপাতালে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ ৪৫টি। এর মধ্যে কর্মরত আছেন ১৬ জন। ফলে ২৯টি পদ শূন্য রয়েছে।

8a3f6d17-b899-44c4-a9bd-2838ad46c320

ডা. দীপান্বিতা দাস বলেন, চিকিৎসক সংকটের কারণে কর্মরতদের ওপর কাজের চাপ অনেক বেড়েছে। একজন চিকিৎসককে একই সঙ্গে একাধিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। তার ভাষায়, ‘আমার রোগী দেখার কথা ইনডোরে। কিন্তু এর পাশাপাশি আউটডোরেও রোগী দেখতে হচ্ছে। একজন চিকিৎসককে প্রতিদিন প্রায় ১৫০ জন রোগী দেখতে হচ্ছে।’

হাসপাতালের গাইনি, সার্জারি, অ্যানেস্থেশিয়া, শিশু, মেডিসিন, নাক-কান-গলা ও কার্ডিওলজি বিভাগেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসকের সংকট রয়েছে। বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন হলে রোগীদের গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতাল, রংপুরসহ বিভিন্ন স্থানে যেতে হচ্ছে। এতে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের চিকিৎসা ব্যয় ও ভোগান্তি বাড়ছে।

আরও পড়ুন

টাই না পরায় শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাতের অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে

হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, মেডিকেল অফিসারসহ চিকিৎসক ও অন্যান্য শ্রেণির মোট অনুমোদিত পদ ২১৩টি। এর মধ্যে ৮৬টি পদ শূন্য। চিকিৎসক ছাড়াও নার্স, টেকনিশিয়ান, অফিস সহকারীসহ বিভিন্ন পদে জনবল সংকট রয়েছে।

এ ছাড়া ডিপার্টমেন্টাল চিকিৎসকের অনুমোদিত আটটি পদের মধ্যে সাতটিই শূন্য। ফলে মাত্র একজন চিকিৎসক দিয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে।

0da534d9-e93e-4dcd-ab08-a9364a550fa6

দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনেরা জানান, হাসপাতালে এসে দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে হয়। প্রয়োজনীয় বিভাগের চিকিৎসক না থাকায় অনেক সময় প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর অন্য হাসপাতাল বা বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হয়।

সালেহা বেগম নামে এক রোগী বলেন, ‘হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না থাকায় অন্য জায়গায় যেতে হয়। সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসক থাকলে সাধারণ মানুষের অনেক উপকার হতো।’

রোগীর স্বজন ইদ্রিস আলী বলেন, ‘কম খরচে ভালো চিকিৎসার আশায় সরকারি হাসপাতালে আসি। কিন্তু ডাক্তার না থাকলে বাইরে যেতে হয়। এতে খরচও বাড়ে, ভোগান্তিও বাড়ে।’

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাদুল্লাপুর উপজেলার প্রত্যন্ত ইউনিয়ন ও গ্রাম থেকে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসেন। তাই চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ানসহ প্রয়োজনীয় জনবল দ্রুত নিয়োগের পাশাপাশি শয্যা ও অবকাঠামো বাড়ানো প্রয়োজন।

91fb8cab-f441-4068-ba77-a6568133758c

তাদের মতে, বিশেষ করে গাইনি, সার্জারি, অ্যানেস্থেশিয়া, শিশু, মেডিসিন, নাক-কান-গলা ও কার্ডিওলজি বিভাগে দ্রুত চিকিৎসক পদায়ন করা দরকার। এতে জেলা ও বিভাগীয় শহরের হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ কমার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় ও ভোগান্তিও কমবে।

হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকেরা জানান, জনবল সংকটের কারণে নিয়মিত দায়িত্বের পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। সীমিতসংখ্যক চিকিৎসককে বহির্বিভাগ, অন্তর্বিভাগ ও জরুরি বিভাগের দায়িত্ব সমন্বয় করে সামলাতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বিলকিস চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

প্রতিনিধি/এসএস