জেলা প্রতিনিধি
০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম
চট্টগ্রামে পেটের ভেতর ইয়াবা বহন করে পাচারের সময় ৯ ও ১২ বছর বয়সী দুই শিশুকে হেফাজতে নিয়েছে র্যাব। পরে চিকিৎসার মাধ্যমে তাদের পেট থেকে ৬ হাজার ৬১৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিশু দুটিকে পাচারের কাজে ব্যবহার করার অভিযোগে শারমিন আকতার প্রকাশ ইসমত আরা নামে এক নারীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে র্যাব-৭-এর সিপিসি-৩-এর কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. তাওহিদুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।
গ্রেফতার শারমিন আকতার কক্সবাজারের চকরিয়া থানার পূর্ব ডোমখালী এলাকার মো. আহমদ হোসেনের মেয়ে। র্যাবের দাবি, এর আগেও একই কৌশলে শিশুদের ব্যবহার করে ইয়াবা পাচারের সঙ্গে তার জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব কর্মকর্তা তাওহিদুল ইসলাম বলেন, কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ইয়াবার একটি চালান আসছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাতে আনোয়ারার তৈলারদ্বীপ সেতু সংলগ্ন গরুর বাজার এলাকায় অস্থায়ী তল্লাশিচৌকি বসানো হয়। এ সময় সন্দেহভাজন একটি সিএনজি অটোরিকশায় তল্লাশি চালিয়ে যাত্রী আসনে থাকা শারমিন আকতারকে আটক করা হয়। একই সঙ্গে তার সঙ্গে থাকা ৯ ও ১২ বছর বয়সী দুই শিশুকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শারমিন শিশু দুটির পেটে ইয়াবা থাকার কথা স্বীকার করেন বলে জানান র্যাব কর্মকর্তা। পরে ৬ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ১টার দিকে শিশু দুটিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে এক্স-রে পরীক্ষায় তাদের পেটের ভেতর ইয়াবা সদৃশ বস্তু শনাক্ত হয়।
এরপর চিকিৎসার একপর্যায়ে ৬ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মলত্যাগের মাধ্যমে ৯ বছর বয়সী শিশুটির পেট থেকে ৬৭টি এবং ১২ বছর বয়সী শিশুটির পেট থেকে ৬৬টি প্যাকেট বের করা হয়। এসব প্যাকেটে মোট ৬ হাজার ৬১৫ পিস ইয়াবা ছিল।
র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে শারমিন দাবি করেন, তিনি উখিয়া থেকে ইয়াবা কিনে শিশু দুটিকে কৌশলে সেবন করিয়ে চট্টগ্রামে নিয়ে আসছিলেন। এর আগেও একই পদ্ধতিতে শিশু দুটির পেটে করে আরও দুইবার উখিয়া থেকে চট্টগ্রামে ইয়াবার চালান পৌঁছে দিয়েছেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানান তিনি।
এ ঘটনায় মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
প্রতিনিধি/জেবি