Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

১২ ব্যবসায়ীর বাজারে ১৮ মাদক কারবারি!

০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৮ পিএম

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া, টাঙ্গাইলের মধুপুর ও ঘাটাইল-তিন উপজেলার সীমান্তঘেঁষা পাহাড়ি লাল মাটির জনপদ রাঙামাটিয়ার কুয়ারবাইদ বাজার। ছোট্ট এই বাজারে পাকা-আধাপাকা ঘর আছে প্রায় ৫০টি, অথচ নিয়মিত ব্যবসায়ী মাত্র ১২ জন। আর অভিযোগ, এই ১২ ব্যবসায়ীর বাজারেই সক্রিয় অন্তত ১৮ মাদক কারবারি। প্রকাশ্যেই চলছে ইয়াবা, গাঁজা ও মদের বেচাকেনা। মাদক কারবার বন্ধের কথা বললেই ব্যবসায়ীদের দেওয়া হচ্ছে হুমকি; এমনকি কলাপাতায় করেও প্রকাশ্যে মাদক বিক্রির দম্ভ দেখাচ্ছেন কারবারিরা।

ঘাটাইলের গারোবাজার থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে কুয়ারবাইদ বাজারের বুক চিরে যাওয়া একটি পাকা সড়ক ফুলবাড়ীয়া উপজেলার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেছে। বর্ষায় সড়ক যোগাযোগ কিছুটা দুর্বল থাকলেও শুকনো মৌসুমে বন বিভাগের ভেতর দিয়ে যাওয়া চার-পাঁচটি সড়ক ব্যবহার করে সহজেই মুক্তাগাছা, ফুলবাড়ীয়া, মধুপুর ও ঘাটাইল উপজেলায় যাতায়াত করা যায়। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই তিন উপজেলার সীমান্তবর্তী এ বাজারটি মাদকের অন্যতম হটস্পট হিসেবে পরিচিত।

3

সীমান্তবর্তী ও দুর্গম অবস্থানের কারণে বাজারটিতে নিয়মিত পুলিশের টহল দেখা যায় না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এ সুযোগে মাদক কারবারিরা অনেকটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। মাঝেমধ্যে পুলিশ বাজারে অভিযান বা টহলে এলে কারবারিরা পাশের রাঙামাটিয়া বন বিট এলাকার বিস্তীর্ণ জঙ্গলে আশ্রয় নেয়। ফলে অভিযান শেষ হলে আবারও স্বাভাবিক হয়ে ওঠে মাদকের কারবার।

গত ৫ সেপ্টেম্বর ভরদুপুরে মাদক কারবারি করিমের (ছদ্মনাম) সাথে বাজারের মাঝখানে কথা হয় বটতলায়। গারোবাজার থেকে পাকা সড়ক ধরে অটো, সিএনজি, ভ্যানরিকশা ও ট্রাক চলাচল করছে। দুপুর হওয়ায় বাজারের লোক সমাগম কম। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ক'জনকে দেখা গেছে তারা গারো বাজারে যাওয়ার জন্য গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছেন। দু একটা চা স্টল খোলা থাকলেও প্রায় ক্রেতাশূন্য। পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ায় সারের বেশ চাহিদা থাকায় ৩/৪টি দোকান আছে সার-বীজের।

মাদক কারবারি করিম জানান, এক সময় সারাদিন বেচাকেনা হতো মাদক। ১৫ দিন আগে মাদক নির্মূল কমিটি করা হলে তা নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। 

2

অভিযোগ উঠে, ওই কমিটি মাদক কারবারিদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে মাদক কারবারিদের রক্ষাসহ মাদক বিক্রিতে মদদ দিচ্ছে। বাজারের যুব সমাজের প্রতিবাদের মুখে বিতর্কিত কমিটি বাতিল করে ৪৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি গঠনের দিন মধুপুর ও ঘাটাইলের সাগরদীঘি ক্যাম্প থেকে পুলিশ এলেও ফুলবাড়ীয়া থানা থেকে পাঠানো হয় দুজন গ্রাম পুলিশকে। কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে চিহ্নিত মাদককারবারিরা গা ঢাকা দিয়েছে। ১৮ জনের মাদক কারবারির নেতৃত্ব দেন ফুলবাড়ীয়ার রাঙামাটিয়া গ্রামের মজিবর ও ঘাটাইলের দুলালিয়ার মুনসুর। 

বাজারের সার ব্যবসায়ী আল মামুন পূর্বের কমিটি নিয়ে বিতর্কের কথা স্বীকার করে ঢাকা মেইলকে বলেন, নতুন করে মাদক নির্মূলের জন্য ৪৪ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। মাদকের হটস্পট হিসেবে পরিচিতি পাওয়া কুয়ারবাইদ বাজার থেকে মাদক নির্মূল হোক- এটা আমাদের চাওয়া। 

বাজারের নাইট গার্ড শাহাবুদ্দিন ফকির ঢাকা মেইলকে বলেন, আমি দেড় মাস ধরে দায়িত্ব পালন করছি। কমিটি গঠনের দিন ছাড়া একদিনের জন্যও পুলিশি টহল দেখিনি। এমনিতে পাহাড়ি অঞ্চল তার মধ্যে বাজার নিয়ে অনেক বদনাম, অন্তত তিন থানার পুলিশ টহল জোরদার হলে মাদক নিয়ে বদনাম কিছুটা হলেও লাঘব হবে।

প্রতিনিধি/জেবি