Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

চট্টগ্রামে মাদক কারবারিদের রক্ষাকবচ কিশোর গ্যাং

০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৭ এএম

চট্টগ্রামে মাদক কারবারির অন্যতম গডফাদার হচ্ছেন রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতাকর্মীরা। যারা তাদের রক্ষাকবচ হিসেবে ব্যবহার করছেন কিশোর গ্যাংকে। মাদক বেচাকেনার স্পটগুলোতে প্রকাশ্যে ক্ষমতা প্রদর্শন করে তারা।

মাদক বিক্রির স্পট নিয়ন্ত্রণ, প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপকে দমন, স্থানীয়দের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে বাধা দেওয়াসহ নানা অপরাধে সব সময় সক্রিয় থাকে বিশোর গ্যাং। স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক নেতাদের মাধ্যমে অনেক এলাকায় পুলিশি অভিযানের তথ্য আগেভাগেই পৌঁছে যায় কিশোর গ্যাংয়ের কাছে। এতে নিয়মিত অভিযানের বদলে আলোচিত ঘটনার পরই অভিযান জোরদার হতে দেখা যায়।

জানা গেছে, নগরীর বেশির ভাগ মাদক স্পট বস্তিকেন্দ্রিক। বহিরাগত কেউ এসব এলাকায় ঢুকলে কিশোর গ্যাংয়ের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হয়। মোবাইল ফোনে অর্ডার দিলেও নাকি কারবারিরা যথাস্থানে মাদক পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।

চান্দগাঁও থানার ৮ নম্বর রেললাইন সংলগ্ন বস্তি দীর্ঘদিন ধরে মাদকের হটস্পট হিসেবে পরিচিত। সেখানে সাজু ও সেলিম নামে দুজন মাদক কারবারে জড়িত বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। একই এলাকায় সাজুর পরিবারের বিরুদ্ধে পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করার বহু প্রমাণ আছে। 
এদিকে কাপ্তাই রাস্তার মাথায় বিদ্যুৎ অফিস-সংলগ্ন এলাকায় ঝর্ণা নামে এক নারী ইয়াবা কারবার চালিয়ে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। কাজীর হাটের কুমারপাড়ায় আলোচনায় রয়েছে ফারুক মেম্বারের নামও।

অনুসন্ধানে জানা যায়, টাইগারপাস আমবাগান এলাকায় আলমগীর নামে এক ব্যক্তি মাদক কারবারে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। স্থানীয়দের দাবি, তার নিয়ন্ত্রিত কিশোর গ্যাংয়ের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। এ ছাড়া কোতোয়ালি থানার বটতলী রেলস্টেশন সংলগ্ন কুমিরা বাস এলাকায় হোসেন ও সাহিদা, আগ্রাবাদ এলাকায় মনা বেগম, শাহ আলম ও রুবির বিরুদ্ধেও মাদক কারবারের প্রমাণ আছে। এসব এলাকায় কিশোর গ্যাংকে ব্যবহার করে মাদক স্পট নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

জানা গেছে, মাদকবিরোধী অভিযানে গেলে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা হামলা, ইট-পাথর নিক্ষেপ, পুলিশ সদস্যদের ওপর আক্রমণ এবং গ্রেফতার আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। সম্প্রতি নগরীর খুলশী ও টাইগারপাসের আমবাগান এলাকায় এমন ঘটনা ঘটে।

ডবলমুরিং থানার এসআই মবিনুল ইসলাম সুমন ও এসআই মহসিন উদ্দিন রুবেলের নেতৃত্বে চিহ্নিত মাদক কারবারি আলমগীরকে গ্রেফতারের সময় কিশোর গ্যাং পুলিশের ওপর হামলা চালায়। ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন এসআই মবিনুল ইসলাম সুমন। পাথর নিক্ষেপে আহত হন আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্য। হামলার সময় পুলিশের ওয়াকিটকি ও অন্যান্য সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

ডবলমুরিং থানার এএসআই বাবলু বলেন, আলমগীরকে গ্রেফতারের পর কিশোর গ্যাং সদস্যরা তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে এসআই মবিনুল ইসলাম সুমন গুরুতর আহত হন।

চট্রগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ জানান, অভিযানে আলমগীরকে দুই হাজার ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। হামলার পর রাতভর অভিযান চালিয়ে পুলিশের ওয়াকিটকিসহ কয়েকটি সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

র‌্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লে. কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, মাদক বিক্রেতা, সেবনকারী ও পৃষ্ঠপোষকদের আজকের মধ্যে মাদক ব্যবসা ছাড়তে হবে। নইলে কাল তাদের জন্য বড় বিপদ অপেক্ষা করছে। তারা যত বড় প্রভাবশালীই হোক, আর কোনো ছাড় নয়।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ইন্দ্রজিৎ কুন্ডু ঢাকা মেইলকে বলেন, পারিবারিক বন্ধন শিথিল হয়ে যাওয়ায় শিশু-কিশোরেরা বিপথগামী হচ্ছে। সাম্প্রতিককালে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা কিশোর গ্যাংয়ের মাধ্যমে নেশায় জড়িয়ে পড়ছে অনেকে। মাদকের উৎস বন্ধ, মাদকাসক্তের চিকিৎসা এবং সর্বোপরি মাদক বিরোধী ব্যাপক সামাজিক আন্দোলনের তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আইকে/জেবি