Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

৩৭ বছরের শিক্ষকতা শেষে রাজকীয় বিদায় শিক্ষকের

উপজেলা প্রতিনিধি

০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৮ পিএম

দীর্ঘ ৩৭ বছরের শিক্ষকতা জীবনের ইতি টানলেন জোরারগঞ্জ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালের সহকারী প্রধান শিক্ষক বিপুল চন্দ্র দে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে রাজকীয়ভাবে শেষবারের মতো কর্মস্থল থেকে বিদায় নিলেন তিনি। 

এসময় প্রিয় শিক্ষককে ফুলের শুভেচ্ছা, করতালি, সম্মানসূচক স্যালুট ও বিদায়ী গানের মধ্য দিয়ে বিদায় দেন তার সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা। ব্যতিক্রমী এই সংবর্ধনার উদ্যোগ নেয় উপজেলার জোরারগঞ্জ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীরা তাদের প্রিয় শিক্ষককে ঘোড়ার গাড়িতে করে বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে আসেন।  

এদিন প্রিয় শিক্ষকের বিদায় সংবর্ধনা উপলক্ষে সকাল থেকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। স্কাউট টিমের সদস্য ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা করতালি ও লাল গোলাপের পাপড়ি দিয়ে প্রিয় শিক্ষক বিপুল চন্দ্র দে’কে শুভেচ্ছা জানান। প্রাত্যহিক সমাবেশে জানানো হয় সম্মানসূচক স্যালুট। এরপর পরিবেশিত হয় বিদায়ী সংগীত।

2 

পরে বিদ্যালয় মিলনায়তনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিদায়ী মানপত্র পাঠ, উত্তরীয় পরিধান, সম্মাননা ক্রেস্ট, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা প্রিয় শিক্ষক নিয়ে স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য দেন। 

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিপুল চন্দ্র দে ১৯৮৯ সালের ১ আগস্ট করেরহাট কামিনী মজুমদার উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। সেখানে প্রায় ২২ বছর গণিতের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০১১ সালের ১ অক্টোবর জোরারগঞ্জ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। 

এই বিদ্যালয়ে প্রায় ১৫ বছর দায়িত্ব পালনকালে তিনি শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। দীর্ঘ কর্মজীবনের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৫ সালে তিনি বিদ্যালয়ের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হন। গত ৪ সেপ্টেম্বর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। 

সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা তাঁকে ঘোড়ার গাড়িতে করে বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেন। দীর্ঘ কর্মজীবনের পর প্রিয় শিক্ষককে এমন ব্যতিক্রমী বিদায় জানাতে পেরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও উপস্থিত অতিথিরা। 

বিদায়ী শিক্ষক বিপুল চন্দ্র দে বলেন, ‘শিক্ষকতা তার কাছে শুধু একটি পেশা নয়, বরং জীবনের সবচেয়ে বড় ভালোবাসা। দীর্ঘ কর্মজীবনে বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও পরিচালনা পরিষদের কাছ থেকে পাওয়া সহযোগিতা ও ভালোবাসার কথা তিনি আজীবন স্মরণ রাখবেন।’ 

3

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘শুধু ভালো ফলাফল অর্জন করলেই হবে না, ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। সততা, মানবিকতা ও নৈতিক মূল্যবোধ ধারণ করে দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করার মানসকতা থাকতে হবে।’ 

বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি আবুল হাশেম ভূঁইয়া বলেন, ‘একজন আদর্শ শিক্ষক জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিপুল চন্দ্র দে তার দীর্ঘ কর্মজীবনে অসংখ্য শিক্ষার্থীকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করেছেন। যা তার বিদায়ী অনুষ্ঠানে প্রমাণ করে।’ 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল আলম বলেন, ‘বিপুল চন্দ্র দে শুধু একজন দক্ষ শিক্ষকই নন, তিনি বিদ্যালয়ের একজন অভিভাবক ছিলেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে শিক্ষকতা ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। তার অবদান বিদ্যালয়ের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

প্রতিনিধি/এএইচ