Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ, প্রতিবাদে মাদরাসায় বিক্ষোভ

জেলা প্রতিনিধি

০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২০ পিএম

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার গুলিশাখালী ফাজিল মাদরাসার অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এ.এ. বারী হাওলাদারকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে মাদরাসা প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

বিক্ষোভের সময় শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে মাদরাসা চত্বরে অবস্থান নেন। তারা অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পুনঃনিয়োগের প্রতিবাদে বিভিন্ন স্লোগান দেন। একপর্যায়ে তার কুশপুত্তলিকা দাহ করেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

মাদরাসা সূত্রে জানা গেছে, এ.এ. বারী হাওলাদার গত ২৯ জুলাই অধ্যক্ষ পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। অবসরের পর তিনি বিনা বেতনে একই পদে থাকার জন্য উদ্যোগ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে দায়িত্ব হস্তান্তর না করায় মাদরাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা তার কক্ষে তালা লাগিয়ে দেন।

এর মধ্যে গত ২ সেপ্টেম্বর ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এ.এ. বারী হাওলাদারকে ওই তারিখ থেকে এক বছরের জন্য বিনা বেতনে অধ্যক্ষ পদে পুনঃনিয়োগ দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. এ. কে. মুহা. নুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত নিয়োগ আদেশটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এরই প্রতিবাদে রোববার তারা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।

অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এ.এ. বারী হাওলাদার বলেন, কর্তৃপক্ষ আমাকে বিনা বেতনে নিয়োগ দিয়েছে। আমি মাদরাসাটির বৈধ অধ্যক্ষ। একটি মহল ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে আমাকে দায়িত্ব পালন করতে দিতে চাইছে না।

তবে মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গাজী মো. শহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, এ.এ. বারী হাওলাদার অধ্যক্ষ থাকাকালে মাদরাসায় বিভিন্ন অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতি হয়েছে। 

তিনি বলেন, তাকে এখন মাদরাসায় কেউ চায় না। তিনি মাদরাসায় ফিরলে চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হতে পারে। প্রাণহানির ঘটনাও ঘটতে পারে। যেকোনো মূল্যে তাকে প্রতিহত করা হবে।

অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্যে বিস্তারিত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পুনঃনিয়োগের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে মাদরাসাটিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

প্রতিনিধি/এলএ