জেলা প্রতিনিধি
০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৯ এএম
হবিগঞ্জের মাধবপুরে মাদরাসাছাত্র আশিকুল ইসলাম জনিকে (১৪) মারধরের পর জোরপূর্বক বিষপান করিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলার এজাহারনামীয় পলাতক এক আসামিকে মৌলভীবাজার থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৯।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র্যাব-৯ সিলেটের মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ।
গ্রেফতার আসামি হলেন মাহবুব আলম মাহী (২৪)। তিনি হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার এনাতাবাদ গ্রামের মৃত মুকিদ মিয়ার ছেলে এবং ওই মাদরাসার শিক্ষক ছিলেন।
র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯, সিপিসি-৩, শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্পের একটি দল শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৮টা ২৫ মিনিটে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ২ নম্বর মনুমুখ ইউনিয়নের নটপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় মাধবপুর থানার হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ২ নম্বর পলাতক আসামি মাহবুব আলম মাহিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, মাধবপুর থানার মামলা নং-৪৩, তারিখ ২৮ মে ২০২৫, দণ্ডবিধির ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়। গ্রেপ্তারের পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাহবুব আলম মাহিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিহত আশিকুল ইসলাম জনি পবিত্র আল কোরআনের হাফেজ হওয়ার উদ্দেশ্যে প্রায় তিন বছর আগে মাধবপুর উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের হযরত আবু বকর ছিদ্দিক (রাঃ) হিফজুল কোরআন সুন্নীয়া নুরানি মাদরাসায় ভর্তি হয়। সেখানে সে আবাসিক ছাত্র হিসেবে পড়াশোনা করছিল।
মামলার অভিযোগ ও র্যাবের তথ্যমতে, মাদরাসাটির প্রতিষ্ঠাতা আল-আমিন হোসাইন এবং শিক্ষক মাহবুব আলম মাহির সঙ্গে ভিকটিমের বিরোধ সৃষ্টি হয়। মাদরাসার অর্থনৈতিক অনিয়ম এবং ছাত্রদের জন্য সংগৃহীত দান-খয়রাতের অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে জনি প্রতিবাদ করায় এ বিরোধের সূত্রপাত হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে অন্য ছাত্রদের সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়ার পর জনিকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। পরে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের সহযোগিতায় তাকে জোরপূর্বক বিষপান করানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরদিন সকাল ৬টার দিকে মাহবুব আলম মাহী অচেতন ও গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় জনিকে তার বাড়িতে নিয়ে যান। পরিবারের সদস্যদের কাছে তখন জনির ‘জিনের আছর’ হয়েছে বলে জানানো হয়।
পরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় জনিকে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আশিকুল ইসলাম জনির মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহত জনির ভাই বাদী হয়ে মাধবপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাহবুব আলম মাহিকে গ্রেফতার করা হয়। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে র্যাবের অভিযান ও গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রতিনিধি/ এজে