০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৮ পিএম
বরগুনার তালতলী উপজেলার বগীরদোনা খালের ওপর ঝুঁকিপূর্ণ লোহার সেতুটি ভেঙে পড়ায় তালুকদার পাড়া ও বড়াইতলী এলাকার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় হাজারো মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
তবে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ডিঙি নৌকায় খাল পার হয়ে তাদের বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সেতু ভেঙে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে তালুকদার পাড়া মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী। কোনো বিকল্প সড়ক না থাকায় বাধ্য হয়ে ডিঙি নৌকায় খাল পার হতে হচ্ছে তাদের। এতে একদিকে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে বিদ্যালয়ে সময়মতো উপস্থিত হতে না পারায় ব্যাহত হচ্ছে তাদের পড়াশোনা।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় দুই যুগ আগে উপজেলা প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) অধীনে বড়বগী ইউনিয়নের তালুকদার পাড়া ও নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের বড়াইতলী এলাকার যোগাযোগ স্থাপনে বগীরদোনা খালের ওপর লোহার সেতুটি নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিন সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেতুটি জরাজীর্ণ হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে ছিল। সম্প্রতি সেটি পুরোপুরি ভেঙে পড়ায় মৌরভী, পাওয়া পাড়া, তালুকদার পাড়া, বড়াইতলীসহ আশপাশের এলাকার মানুষের স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয়রা জানান, অস্থায়ী পারাপারের ব্যবস্থা দ্রুত নিশ্চিত করার পাশাপাশি বগীরদোনা খালের ওপর একটি টেকসই ও স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে হাজারো মানুষের।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু সালেহ, জাকির হোসেন এবং শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম ও আমেনা আক্তার বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। বারবার সংস্কারের কথা বলা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এখন সেতুটি ভেঙে পড়ায় চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ডিঙি নৌকায় পার হতে হচ্ছে। সন্তানদের একা স্কুলে পাঠাতেও ভয় করছেন অভিভাবকরা।
তালুকদার পাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু তাহের বলেন, সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা সময়মতো স্কুলে আসতে পারছে না। প্রতিদিন ডিঙি নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে খাল পার হতে হচ্ছে। এতে উপস্থিতির হার কমার পাশাপাশি তাদের স্বাভাবিক পড়াশোনাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা জরুরি।
এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতীশ সরকার বলেন, ভেঙে যাওয়া সেতুটি অপসারণসহ নতুন সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রকৌশল বিভাগকে বলা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, শিক্ষার্থী ও জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘবে জরুরিভিত্তিতে আপৎকালীন একটি কাঠের পুল নির্মাণের প্রাক্কলনের কাজ চলমান রয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে পারাপারের বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে দৃশ্যমান কার্যক্রম শুরু হবে।
এএইচ