উপজেলা প্রতিনিধি
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২০ পিএম
দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনার পাশাপাশি ভূমিসেবা, কৃষি, শিক্ষা, আইনশৃঙ্খলা ও সাধারণ মানুষের সরকারি সেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন মো. মাঈদুল ইসলাম। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সেবাপ্রার্থীদের সমস্যা গুরুত্ব দিয়ে শোনার কারণেও স্থানীয়ভাবে প্রশংসা পেয়েছেন তিনি।
২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর দোহারে ইউএনও হিসেবে যোগ দেন ৩৬তম বিসিএসের এই কর্মকর্তা। এর আগে তিনি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ইউএনওর পাশাপাশি তিনি দোহার পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসনের প্রশাসকের দায়িত্বও পালন করছেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সরকারি খাসজমি উদ্ধার, মাদকবিরোধী অভিযান, অবৈধ চায়না দুয়ারি জালের কারখানায় অভিযান, ভেজাল খাদ্য তৈরির কারখানা বন্ধ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও অবৈধ ফুটপাত দখলমুক্ত করাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন তিনি।
ভূমিসেবা নিয়ে মানুষের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জমিসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে সমাধানের চেষ্টা করছেন ইউএনও। কার্তিকপুর এলাকার তাহমিদা আক্তার নামে এক নারী ২০ বছর ধরে পৈতৃক ওয়ারিশের সম্পত্তি পাওয়ার জন্য বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেও সমাধান পাননি। পরে ইউএনওর কাছে আবেদন করলে মাত্র দুটি শুনানির মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি করা হয়।
তাহমিদা আক্তার বলেন, ‘আমি রীতিমতো অবাক হয়েছি। এত দ্রুত সম্পত্তি বুঝে পাব, তা কল্পনাও করিনি।’
শিক্ষার মানোন্নয়নেও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করছেন ইউএনও। শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের জন্য শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে পরামর্শ করছেন তিনি।
কাটাখালী মিছের খান উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাফরুহা ডেইজী নীতু বলেন, ‘বর্তমান ইউএনও স্যার শিক্ষার সার্বিক মানোন্নয়নে খুবই আন্তরিক। স্কুল পরিদর্শনসহ মাসিক সভায় পড়াশোনা ও শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখাসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন।’

ইকরাশি আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের এক দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার খবর পেয়ে তার যাবতীয় শিক্ষা ব্যয় বহনের দায়িত্ব নেন ইউএনও। এতে ওই শিক্ষার্থীর পরিবারও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।
এর আগে মুকসুদপুর এলাকায় মমিন খালাসী নামে এক বয়োবৃদ্ধকে রিকশা চালাতে দেখে গাড়ি থামিয়ে তার খোঁজ নেন মাঈদুল ইসলাম। পরে জানতে পারেন, ছেলে সন্তান থাকা সত্ত্বেও তারা তার খোঁজখবর নেন না। নিরুপায় হয়ে তিনি রিকশা চালাচ্ছেন। ইউএনও তাকে খাদ্যসামগ্রী দেন এবং ভবিষ্যতেও সহযোগিতার আশ্বাস দেন। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিয়াম মোহাম্মদ মিঠুন বলেন, ‘ইউএনও একজন কৃষিবান্ধব কর্মকর্তা। দেশে তেলসংকট দেখা দিলে তিনি প্রকৃত কৃষকদের তালিকা করে তেলের কার্ড দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। কৃষি প্রণোদনার ক্ষেত্রেও প্রকৃত কৃষকদের দেওয়ার পরামর্শ দেন।’

দোহার প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক মো. তারেক রাজিব বলেন, ‘সরকারের মাঠ প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা ও মানবসেবক হিসেবে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অসাধারণ একজন মানুষ। সরকারের অর্পিত প্রতিটি দায়িত্ব তিনি পেশাদারত্বের সঙ্গে পালন করে যাচ্ছেন।’
নিজের কার্যক্রম সম্পর্কে ইউএনও মো. মাঈদুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি একজন কর্মকর্তা হিসেবে আমার ওপর যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা পালনের পাশাপাশি সব সময় চেষ্টা করি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে। আমার ওপর যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, আমার জানা মতে, তা পালনে অবহেলা করিনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘দোহার উপজেলার মানুষ আন্তরিক ও অতিথিপরায়ণ। যেকোনো প্রয়োজনে রাজনীতিবিদ ও সুশীল সমাজের সহযোগিতা পাওয়ায় এখানে কাজ করতে কোনো অসুবিধা হয় না। যতদিন এই উপজেলায় আছি, মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নসহ উপজেলার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করে যাব।’
প্রতিনিধি/এসএস