জেলা প্রতিনিধি
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৪ এএম
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে বরযাত্রীর গাড়ি আটকে মিষ্টি খাওয়ার জন্য টাকা দাবি করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বরসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৪৬ জন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল পাঁচটার দিকে উপজেলার বারঘড়িয়া ইউনিয়নের গাবতলী বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে করিমগঞ্জ উপজেলার নোয়াবাদ ইউনিয়নের ঝাউতলা এলাকায় কনের বাড়ির উদ্দেশে বরযাত্রী নিয়ে একটি গাড়ি যাচ্ছিল। পথে গাবতলী বাজারে পৌঁছালে ধীতপুর বড়বাড়ি এলাকার কাজলের পক্ষের কয়েকজন যুবক গাড়িটি আটকে মিষ্টি খাওয়ার জন্য টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

এ নিয়ে কাজলের পক্ষের লোকজনের সঙ্গে বারঘড়িয়া এলাকার আশকর আলীর বংশের বরপক্ষের লোকজনের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় ইট-পাটকেল ও ঢিল ছোড়াছুড়ির ঘটনাও ঘটে।

সংঘর্ষে বর মো. হানিফ ও তার বাবা হবি মিয়াসহ অন্তত ৪৬ জন আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বরযাত্রীর গাড়ি আটকে টাকা দাবি করাকে কেন্দ্র করে প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে হাতাহাতির একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
ধীতপুর বড়বাড়ি এলাকার কাজল বলেন, ‘তারা জামাই নিয়ে যাচ্ছিল। গাবতলী বাজারে পৌঁছালে যানজট সৃষ্টি হয়। পরে এক অটোরিকশার চালকের সঙ্গে জামাই পক্ষের লোকজনের কথা-কাটাকাটি হয়। তখন আমার লোকজন তাদের ঝগড়া না করার জন্য বলেন। এ নিয়ে একপর্যায়ে বরপক্ষের লোকজনের সঙ্গে আমাদের লোকজনের মারামারি হয়। এতে আমাদের পক্ষের অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন।’

অন্যদিকে বরপক্ষের হেলাল বলেন, ‘আমরা জামাইয়ের গাড়ি নিয়ে যাচ্ছিলাম। গাবতলী বাজারে পৌঁছালে কাজলের ভাই-ভাতিজারা গাড়ি আটকে মিষ্টির টাকা চান। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ঝগড়া ও সংঘর্ষ হয়। এতে আমাদের পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।’

খবর পেয়ে করিমগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের লোকজন সরে গেলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেব খান বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
প্রতিনিধি/এসএস