জেলা প্রতিনিধি
০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩২ পিএম
কুমিল্লার মুরাদনগরে ইলিশ মাছবাহী পিকআপে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় চালক ও মাছ ব্যবসায়ীকে মারধর করে হাত-পা ও মুখ বেঁধে সড়কের পাশে ফেলে রেখে পিকআপসহ প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ইলিশ মাছ ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে ডাকাতরা।
এ ঘটনায় মুরাদনগর থানায় অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরী শুক্রবার ( ৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা মেইলকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপুর সদর এলাকার মাছ ব্যবসায়ী বেলাল হোসেন চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানার পুরাতন ফিশারি ঘাট এলাকার একটি মাছের আড়ত থেকে ইলিশ মাছ কিনে পিকআপযোগে কুমিল্লার বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করতেন। ১ সেপ্টেম্বর রাতে তিনি চালক ও সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে ইলিশ মাছ নিয়ে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হন।
ব্যবসায়ী বেলাল হোসেন জানান, রাত সাড়ে ১২টার দিকে মুরাদনগর থানার কামাল্লা ইউনিয়নের নিয়ামতপুর এলাকায় মুরাদনগর-রামচন্দ্রপুর সড়কে পৌঁছালে একটি সাদা রঙের পিকআপ তাদের গাড়ির গতিরোধের চেষ্টা করে। এ সময় অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২ জনের একটি ডাকাত দল লাঠি, রামদা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ইলিশবাহী পিকআপে হামলা চালায়।
ডাকাতরা চালক ও মাছ ব্যবসায়ীকে মারধর করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। একপর্যায়ে তাদের হাত-পা এবং মুখ বেঁধে সড়কের পাশে ফেলে রেখে ইলিশ মাছবোঝাই পিকআপটি নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় ভুক্তভোগীরা উদ্ধার হলে পরে পুলিশকে বিষয়টি জানান।
এ ঘটনায় পিকআপে থাকা প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ইলিশ মাছ এবং মাছ ব্যবসায়ী বেলাল হোসেনের কাছে থাকা আনুমানিক ৭১ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায় ডাকাত দল।
ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত ডাকাতির ঘটনায় কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। উদ্ধার করা যায়নি লুট হওয়া ইলিশ মাছ, নগদ টাকা কিংবা ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত পিকআপটিও। এতে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ডাকাতির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে।
প্রতিনিধি/এলএ