০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৫ পিএম
ধর্মীয় বিশ্বাসকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে সমাজে বিভাজন ও অশান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা ধর্মীয় বিশ্বাস যা-ই হোক, বাংলাদেশকে বিভক্ত করার চেষ্টা হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করতে হবে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) শ্রীকৃষ্ণের ৫২৫৩তম জন্মাষ্টমী উপলক্ষে যশোরে আয়োজিত আলোচনা সভা ও মঙ্গল শোভাযাত্রায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ধর্ম মানুষের বিশ্বাস ও চেতনার জায়গা। এটিকে রাজনীতির হাতিয়ার বানিয়ে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। ধর্মবিশ্বাসের পার্থক্যের কারণে কোনো নাগরিক বঞ্চিত হবেন না, আবার ধর্মের পরিচয়ে কেউ অতিরিক্ত সুবিধাও পাবেন না—রাষ্ট্রকে সেই ভারসাম্য নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘যে রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাই হোন কিংবা যে ধর্মের অনুসারীই হোন—বাংলাদেশের মাটিতে বিভাজন সৃষ্টি কিংবা সামাজিক অশান্তি তৈরির চেষ্টা করলে সম্মিলিতভাবে তা প্রতিহত করা হবে। প্রয়োজনে সামাজিকভাবেও তাদের বয়কট করা হবে।’
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিজেদের সংখ্যালঘু বা দুর্বল মনে করার কোনো কারণ নেই। বাংলাদেশে বসবাসকারী প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে।
তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতীয় সংসদে বলেছিলেন, কারও ধর্মবিশ্বাস বা রাজনৈতিক দর্শন নয়, বাংলাদেশ ভূখণ্ডে বসবাসকারী সবার পরিচয় বাংলাদেশি।

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের একজন প্রতিনিধি হিসেবে এই যশোরের মাটিতে আমার যতখানি অধিকার রয়েছে, আপনাদেরও ঠিক ততখানি অধিকার রয়েছে।’
জন্মাষ্টমীর তাৎপর্য তুলে ধরে অমিত বলেন, অন্ধকার ও পাপাচারে আচ্ছন্ন সময়ে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব হয়েছিল। কংসের কারাগারে তার জন্মের মধ্য দিয়ে একটি বার্তা পাওয়া যায়—অন্ধকার যত গভীরই হোক, ন্যায়ের পথ ধরে শেষ পর্যন্ত মুক্তির আলো আসে।
সমাজে সেই আলোর প্রত্যাশা ধরে রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সত্য, পারস্পরিক বিশ্বাস ও ভালোবাসার ভিত্তিতে সমাজ গড়ে তুলতে হবে। ব্যক্তিগত কিংবা গোষ্ঠীগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানও মানুষকে নতুন প্রত্যাশা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার শিক্ষা দিয়েছে।
এর আগে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে যশোর শহরের টাউন হল মাঠে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় সংগীত ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা হয়। পরে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বালন করে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করা হয়।
দুপুর টাউন হল মাঠ থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী জ্ঞানপ্রকাশানন্দজী মহারাজ শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন। শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বেজপাড়ার সর্বজনীন পূজা মণ্ডপ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম ও যশোর পৌর প্রশাসক রফিকুল হাসান।
সম্মানিত অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু ও সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খান খোকন।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপংকর দাস রতনের সভাপতিত্বে সভা সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার ঘোষ।
এতে আরও বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি গোলাম রেজা দুলু, পৌরসভার সাবেক মেয়র মারুফুল ইসলাম, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের যশোর জেলা শাখার আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট দেবাশীষ দাস, সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রবিন পাল, সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার সরকার ও পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক উৎপল ঘোষ।
প্রতিনিধি/এআরএম