ঢাকা মেইল ডেস্ক
০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৯ এএম
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের খাটিয়াগড় গ্রামে একটি পুকুরে বিষাক্ত পদার্থ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। এতে পুকুরের প্রায় দুই লাখ কই মাছের ৮০ শতাংশ মারা গেছে বলে দাবি করেছেন পুকুরের মালিক নাসির উদ্দিন ফকির। তাঁর দাবি, এতে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে পুকুরের পানিতে অসংখ্য মৃত মাছ ভেসে উঠতে দেখা যায়। একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মাছ মারা যাওয়ায় পুকুরের আশপাশে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে।
পুকুরের মালিক নাসির উদ্দিন ফকিরের অভিযোগ, পূর্বশত্রুতার জেরে তাঁর প্রতিবেশী মোর্শেদ শেখ পুকুরে বিষাক্ত পদার্থ প্রয়োগ করেছেন।
নাসির উদ্দিনের ছেলে সাজ্জাদ ফকির বলেন, বুধবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে তিনি মোর্শেদ শেখকে পলিথিনে থাকা বিষাক্ত ট্যাবলেট পুকুরে ছুড়ে ফেলতে দেখেন। বিষয়টি দেখে তাঁকে ধরতে এগিয়ে গেলে মোর্শেদ তাঁকে ঘুষি মেরে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন সাজ্জাদ।
পরে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি পলিথিনের প্যাকেট দেখতে পান। সেটি মোর্শেদ শেখের ফেলে যাওয়া বলে দাবি করেন তাঁরা। ওই প্যাকেটে বিষাক্ত পদার্থের আলামত পাওয়া গেছে বলেও দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সুমন ফকির বলেন, সাজ্জাদ ফকির ও মোর্শেদ শেখের মধ্যে বাক্বিতণ্ডার শব্দ শুনে তিনি ঘটনাস্থলে যান। পরে পলিথিনের প্যাকেটটি নাকের কাছে নিলে বিষাক্ত পদার্থের গন্ধ পান বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, পরদিন সকাল থেকেই পুকুরে বিপুলসংখ্যক মাছ মরে ভেসে উঠতে দেখা যায়।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোর্শেদ শেখ। তিনি দাবি করেন, পুকুরে বিষ প্রয়োগ কিংবা মাছ মারা যাওয়ার ঘটনায় তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে একজন কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুকুরে কী ধরনের পদার্থ প্রয়োগ করা হয়েছিল এবং সেটিই মাছের মৃত্যুর কারণ কি না, তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
প্রতিনিধি/এআর