জেলা প্রতিনিধি
০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৭ পিএম
সিরাজগঞ্জে আদালতের হাজতখানার দ্বিতীয় তলা থেকে লাফ দিয়ে আব্দুল মমিন (বড় গ্যদা) নামে এক চুরির মামলার আসামি পালিয়ে গেছেন। তাকে গ্রেফতার করতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাকে গ্রেফতার করা যায়নি।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে সিরাজগঞ্জ চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের দ্বিতীয় তলার হাজতখানা থেকে লাফ দিয়ে তিনি দৌড়ে পালিয়ে যান।
পলাতক আসামি আব্দুল মমিন (বড় গ্যদা) সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার কোবদাসপাড়া মহল্লার বাসিন্দা বলে একটি সূত্র জানায়।
এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি পুলিশ।
তবে আদালতের অতিরিক্ত পিপি হুমায়ুন কবীর কর্নেল বলেন, সকালে আদালতে এসে শুনতে পাই দ্বিতীয় তলা থেকে এক হাজতি আসামি নিচে লাফ দিয়ে পালিয়ে গেছে। পুলিশ তাকে গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে।
আদালতে হাজিরা দিতে আসা একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছে, সকালে জেলা কারাগার থেকে বিভিন্ন মামলার বেশ কয়েকজন আসামিকে আদালতে আনা হয়। বেলা ১১টার দিকে একজন আসামি হাজতখানার দ্বিতীয় তলা থেকে নিচে লাফ দেয়। পরে দেখি, সে দৌড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে সে বাউন্ডারি দেওয়াল টপকে চলে যায়।
পলাতক আসামি আব্দুল মমিনের ভাইরা কিসমত আলী বলেন, আব্দুল মমিন চুরি, ছিনতাইসহ এলাকায় নানা অপকর্মে করে বেড়ায়। তার অত্যাচারে এলাকার মানুষ অতিষ্ট হয়ে পড়েছে। ২০-২২ দিন আগে মমিন আমার বাড়িতে চুরি করতে যায়। রাতে ঘরের বেড়া কেটে ঢুকে পড়ে। পরে আমিসহ এলাকার লোকজন তাকে আটক করে পুলিশে দেই। চুরির মামলায় সে জেলহাজতে আটক আছে। কিছুক্ষণ আগে তার বাড়িতে পুলিশ এসেছিল। পুলিশ বলল- সে নাকি কোর্ট থেকে পালিয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৩ সালে কোবদাসপাড়া মহল্লায় ইউসুফ নামে এক যুবককে হত্যা করা হয়। এই হত্যা মামলায় আব্দুল মমিন এজাহারভুক্ত আসামি। বেশ কিছুদিন কারাভোগ করে কিছুদিন আগে জেল থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছে। জেল থেকে বের হয়ে সে এলাকায় চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপকর্মে করে বেড়াচ্ছে। তার শাস্তি হওয়া দরকার।
স্থানীয় স্বপন নামে এক যুবক বলেন, আব্দুল মমিন সম্পর্কে আমার বোন জামাই হন। কয়েকদিন আগে সে আমার বাড়িতে চুরি করেছে। সে একজন সন্ত্রাসী। চুরি, ছিনতাই, হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে তার নামে। তার অপকর্মে এলাকার মানুষ অতিষ্ট। পরে বাধ্য হয়ে সবাই মিলে আমরা তাকে পুলিশে ধরিয়ে দেই।
প্রতিনিধি/এলএ