Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, শিক্ষক আটক

জেলা প্রতিনিধি

০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২২ পিএম

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে আবুল কালাম আজাদ নামের এক মাদরাসাশিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। এর আগে অভিযোগ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন তাকে মাদরাসা থেকে আটক করে মারধর করেন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার জামজামি ইউনিয়নের চরপাড়া জামিয়া ইসলামিয়া কওমি মহিলা মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওই মাদরাসায় পুরুষ ও মহিলা শাখার পাশাপাশি আবাসিক ও কিন্ডারগার্টেন শাখা রয়েছে। মহিলা মাদরাসার আবাসিক শাখায় শতাধিক ছাত্রী পড়াশোনা করে। দামুড়হুদা উপজেলার উজিরপুর গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ প্রায় ১৫ বছর ধরে ওই মাদরাসায় বড় হুজুর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর স্ত্রীও মাদরাসার মহিলা শাখায় শিক্ষকতা করেন। তারা মাদরাসা প্রাঙ্গণেই বসবাস করেন।

বৃহস্পতিবার সকালে ওই ছাত্রীর আচরণ নিয়ে তার পরিবারের সঙ্গে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের যোগাযোগ হয়। পরে আবুল কালাম আজাদ ছাত্রীর বাবাকে ফোন করে মেয়েকে মাদরাসা থেকে নিয়ে যেতে বলেন। বাবা মাদরাসায় গিয়ে মেয়েকে বাড়িতে নেওয়ার সময় ছাত্রী আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ করে।

এরপর ছাত্রীর বাবা মাদরাসায় গিয়ে আবুল কালাম আজাদের কাছে বিষয়টি জানতে চান। সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। পরে বিষয়টি জামজামি পুলিশ ক্যাম্পে জানানো হয়।

এর মধ্যে অভিযোগের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন মাদরাসায় জড়ো হয়ে আবুল কালাম আজাদকে আটক করে মারধর করেন। খবর পেয়ে জামজামি ক্যাম্পের পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে আলমডাঙ্গা থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে পুলিশ আবুল কালাম আজাদকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

ছাত্রীর বাবা বলেন, সকালে বড় হুজুর তাকে ফোন করে বলেন, তার মেয়ে বেয়াদব হয়ে গেছে, তাকে নিয়ে যেতে। মাদরাসা থেকে মেয়েকে বাড়িতে নেওয়ার সময় সে জানায়, হুজুর তার সঙ্গে খারাপ কিছু করার চেষ্টা করেছেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন তাঁকে আটক করে পুলিশের কাছে দেন।

তবে মাদরাসার কয়েকজন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দাবি, অভিযোগের পেছনে অন্য কোনো বিরোধ থাকতে পারে। তাদের ভাষ্য, মাদরাসায় অবস্থানকালে ওই ছাত্রীর সঙ্গে একটি ছেলের যোগাযোগের বিষয় নিয়ে আবুল কালাম আজাদ তাকে বকাঝকা করেন। পরে অভিভাবকদের খবর দিয়ে তাঁকে বাড়িতে নিয়ে যেতে বলেন। এরপরই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

মাদরাসার এক কর্মচারীও দাবি করেন, কয়েক দিন আগে মাদরাসার আশপাশে দুই যুবককে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। স্থানীয় কয়েকজন নারীও একই ধরনের দাবি করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের পাশাপাশি ঘটনার সব দিক তদন্ত করে দেখা হবে।

আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাণী ইসরাইল বলেন, ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেছেন। অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিনিধি/এআর