জেলা প্রতিনিধি
০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫৪ পিএম
স্ত্রীর মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল রতন পোদ্দারের (৫৫)। স্ত্রীকে হারানোর পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শরীয়তপুর জেলা শহরের ধানুকা বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সি আ. রউফ স্টেডিয়ামের সামনে চলন্ত একটি মিনিবাস থামানোর চেষ্টা করার সময় সেটির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন। পরে ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
রতন পোদ্দার শরীয়তপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ মধ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি মৃত গৌরঙ্গ পোদ্দারের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার বিকেল থেকেই রতন স্টেডিয়ামের সামনে সড়কে চলাচলকারী গাড়িগুলোকে হাতের ইশারায় থামানোর চেষ্টা করছিলেন। তার এমন কর্মকাণ্ড দেখে স্থানীয় লোকজনের কেউ কেউ ভিডিও করছিলেন। সন্ধ্যার পর শরীয়তপুর আন্তজেলা বাস মালিক সমিতির একটি মিনিবাস দ্রুতগতিতে ওই সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় রতন সেটিকে হাতের ইশারায় থামানোর চেষ্টা করেন। এ সময় বাসটি তাকে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়।
পরে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় রতনকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ধাওয়া করে বাস ও চালককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক মাস আগে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে রতন পোদ্দারের স্ত্রী মারা যান। এরপর থেকে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ধীরে ধীরে তার মানসিক অবস্থার অবনতি হয়।
রতন-দম্পতির তিন সন্তান। বড় মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। ছোট দুই সন্তান এখনো অপ্রাপ্তবয়স্ক। মায়ের মৃত্যুর এক মাসের মধ্যেই বাবাকেও হারিয়ে তারা অনেকটাই অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে।

রতনের প্রতিবেশী মো. শহিদুল ইসলাম ঢালী বলেন, ‘রতন পোদ্দারের স্ত্রী মারা গেছেন মাসখানেক আগে। স্ত্রী মারা যাওয়ার পর থেকেই তিনি মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন। আজ সড়ক দুর্ঘটনায় তিনিও মারা গেলেন। তাদের তিন সন্তানের মধ্যে বড় মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। ছোট দুই সন্তানকে দেখার মতো এখন আর কেউ রইল না। আমরা চাই, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এ ঘটনার বিচার হোক। পাশাপাশি শিশু দুটির ভবিষ্যতের জন্য একটি ব্যবস্থা করা হোক।’
শরীয়তপুর আন্তজেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদ তালুকদার বলেন, ‘আমাদের লোকাল বাসের ধাক্কায় একজন মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি আহত হয়েছেন—এ খবর পাওয়ার পর মালিক সমিতির পক্ষ থেকে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আমরা মর্মাহত। মালিক সমিতি তার সাধ্যমতো নিহতের পরিবারের পাশে থাকবে।’
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম বলেন, বাস ও চালককে আটক করা হয়েছে। ভুক্তভোগী মারা যাওয়ায় এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
প্রতিনিধি/এসএস