Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

তথ্যপ্রযুক্তির ফাঁদে ৬ চোর, উদ্ধার ১৬ লাখ টাকার চোরাই স্বর্ণ

জেলা প্রতিনিধি

০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১৭ এএম

শরীয়তপুরে একটি চুরি মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সংঘবদ্ধ চোরচক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে প্রায় আট ভরি চোরাই স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণালংকারের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৬ লাখ টাকা।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে প্রেস ব্রিফিং করে এসব তথ্য জানান পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম।

পুলিশ জানায়, গত ২৩ আগস্ট রাত আনুমানিক ২টার দিকে পালং মডেল থানার গয়ঘর খলিফাকান্দি এলাকায় একটি বাড়ির তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে চোরচক্রের সদস্যরা। পরে একটি ট্রাংকের তালা ভেঙে নগদ ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা এবং গলার হার, চেইন, কানের দুল, হাতের বালা-রুলিসহ প্রায় ১৫ লাখ ১৪ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার চুরি করে নিয়ে যায় তারা।

এ ঘটনায় ২৭ আগস্ট পালং মডেল থানায় মামলা করা হয়। মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে ওই দিনই শৌলপাড়া এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—নড়িয়া উপজেলার বিল দেওয়ানিয়া এলাকার আতাহার মাদবর (৩৬), পালং মডেল থানার গয়ঘর খলিফাকান্দি এলাকার সুমন সরদার (৩০), মো. রুবেল বেপারী (৩০), মো. সাগর খলিফা (২৮), শিপলু খান (৪৫) ও সুমন পাল (৩২)।

পুলিশের ভাষ্য, গ্রেফতার আতাহার মাদবরের দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে শৌলপাড়া বাজারের ‘সুস্মিতা শিল্পালয়’ নামের একটি স্বর্ণের দোকান এবং তার বাসায় অভিযান চালানো হয়। পরে চোরাই স্বর্ণালংকার কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া সুমন পালের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গঙ্গানগর স্বর্ণকার পট্টির ‘মা জুয়েলার্স’ ও তার বাসায় অভিযান চালানো হয়।

এসব স্থান থেকে চোরাই স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

উদ্ধার হওয়া স্বর্ণালংকারের মধ্যে রয়েছে একটি বড় চেইন, তিনটি মাঝারি চেইন, বিভিন্ন আকারের সাতটি আংটি, সাত জোড়া কানের দুল, একটি ব্রেসলেট/বেইচ লাইট, একটি গলার নেকলেস, একটি চেইনের লকেট এবং গলানো স্বর্ণের তিনটি অংশ।

পুলিশ আরও জানায়, মামলার ছয় নম্বর আসামি রবিন খলিফা (২৭) এখনও পলাতক। তাকে গ্রেপ্তার এবং চুরি যাওয়া অবশিষ্ট স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পালং মডেল থানার ওসি মো. শাহ আলম বলেন, আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চোরাই স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গ্রেপ্তার ছয় আসামিকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি পলাতক আসামিকে গ্রেফতার ও বাকি মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

প্রতিনিধি/এএইচ