Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

বিচারকের সিল-স্বাক্ষর জাল করে এফিডেভিট, বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে মামলা

জেলা প্রতিনিধি

০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৩ এএম

জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের জন্য তৈরি এফিডেভিটে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষর ও আদালতের সিল জাল করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গাইবান্ধায় বাবা ও ছেলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। একই মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। 

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন মামলার বাদী ও গাইবান্ধা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী নাজমুল হুদা। 

তিনি বলেন, মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) গাইবান্ধা সদর আমলি আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। এতে পলাশবাড়ী উপজেলার পূর্বপাড়া মহেশপুর গ্রামের সাকোয়াত হোসেন ও তার ছেলে আসাদুজ্জামানকে আসামি করা হয়েছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৭ আগস্ট সকালে বাবা-ছেলে এনআইডি সংশোধনসংক্রান্ত একটি এফিডেভিট করার জন্য আদালতের বেঞ্চ সহকারীর কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন। কাগজপত্র যাচাইয়ের সময় একই ব্যক্তিকে নিয়ে একই ম্যাজিস্ট্রেটের নামে করা আরও একটি এফিডেভিটের ফটোকপি নজরে আসে। 

এরপর আসাদুজ্জামান তার বাবা সাকোয়াত হোসেনের ‘একই ব্যক্তি মর্মে’ করা এফিডেভিটের মূল কপি জমা দেন। ওই নথি যাচাই করতে গিয়ে আদালতের কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। কারণ, এফিডেভিটে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাব্বির আহম্মেদের নামে যে স্বাক্ষর ও সিল ব্যবহার করা হয়েছে, তা তার নয় বলে প্রাথমিক যাচাইয়ে ধরা পড়ে। 

পরে বিষয়টি নিশ্চিত হতে আদালতের সংশ্লিষ্ট রেজিস্টার ও নথিপত্র পরীক্ষা করা হয়। এ সময় এফিডেভিটে উল্লেখ করা স্মারক নম্বরের সঙ্গে আদালতের রেজিস্টারের তথ্যের অসঙ্গতি পাওয়া যায়।

এজাহারে বলা হয়েছে, সন্দেহজনক এফিডেভিটটি ১৬ জুন ২০২৬ তারিখে সম্পাদিত দেখানো হয়েছে। এতে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাব্বির আহম্মেদের স্বাক্ষরের পাশাপাশি ৬২৩/২৬ নম্বর স্মারক উল্লেখ করা হয়। কিন্তু আদালতের প্রকৃত এফিডেভিট রেজিস্টার যাচাই করে ওই নম্বরের কোনো এন্ট্রি পাওয়া যায়নি। 

আদালতের রেজিস্টারে সর্বশেষ ৫ মে ৪৫০/২৬ নম্বর স্মারকের এন্ট্রি থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট এফিডেভিটটি জাল ও সৃজিত বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। 

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, জাল হিসেবে সন্দেহ করা এফিডেভিটে ইংরেজি ভাষায় যে সিল ব্যবহার করা হয়েছে, সেটিও প্রকৃত সিলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সংশ্লিষ্ট আদালতের প্রকৃত সিল বাংলায় লেখা বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। 

অভিযোগে বলা হয়েছে, অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের সহযোগিতায় সাকোয়াত হোসেন ও তার ছেলে আসাদুজ্জামান পরস্পর যোগসাজশে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষর ও আদালতের সিল নকল করে এফিডেভিট তৈরি করেন। পরে সেটি আদালতে বৈধ নথি হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। 

এই মামলার অভিযোগের বিষয়ে আসামিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।   

মামলার বাদী ও আদালতের বেঞ্চ সহকারী নাজমুল হুদা বলেন, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষর ও আদালতের সিল জাল করার বিষয়টি যাচাইয়ে ধরা পড়ার পর এফিডেভিট করতে আসা বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

প্রতিনিধি/এএইচ