জেলা প্রতিনিধি
০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২২ পিএম
কয়েক দিনের খরায় পানির সংকটে ছিল রাজশাহীর আমন ক্ষেত। ধানে ফুল আসার গুরুত্বপূর্ণ সময়েও কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি না হওয়ায় উদ্বেগে ছিলেন কৃষকরা।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ভোরের অঝোর বৃষ্টি সেই উদ্বেগ অনেকটাই দূর করেছে। তবে কৃষিজমিতে স্বস্তি নিয়ে আসা এ বৃষ্টিই নগরবাসীর জন্য ডেকে এনেছে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ভোর থেকে হওয়া বৃষ্টিতে চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ ৯৯ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এবার বর্ষা মৌসুমেও কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় আমন চাষাবাদ নিয়ে শঙ্কায় ছিলেন রাজশাহীর কৃষকরা। বৃষ্টি না হওয়ায় অনেককে সেচ দিয়ে জমির পানির চাহিদা মেটাতে হচ্ছিল। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ার পাশাপাশি ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়েও তৈরি হয়েছিল উদ্বেগ।
রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় এখন আমন ধানের জমিতে ফুল এসেছে। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, ধানের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় দানা পরিপুষ্ট হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলে ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনাও বেড়েছে। তাই বৃষ্টিতে খুশি সবজি চাষিরাও।
পবা উপজেলার দামকুড়া এলাকার আগাম সবজি চাষি মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমি ২৫ বিঘা জমিতে আগাম জাতের বাঁধাকপি ও ফুলকপি চাষ করেছি। কয়েক দিন ধরে বৃষ্টি না হওয়ায় জমির আর্দ্রতা নিয়ে চিন্তায় ছিলাম। আজকের বৃষ্টিতে সবজির অনেক উপকার হবে, সেচের খরচও কমবে।’
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মোস্তফা কামাল হোসেন বলেন, এ সময়ে বৃষ্টি হলে আমন ধানের বৃদ্ধি ও ফলন ভালো হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। বিশেষ করে ধানে ফুল আসা ও দানা গঠনের সময়ে পর্যাপ্ত পানি পাওয়া ফলনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে, একই বৃষ্টি নগরজীবনে তৈরি করেছে ভোগান্তি।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, বৃষ্টিতে রাজশাহী নগরের বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে পানি জমে গেছে। বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সামনে, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের সড়ক, বর্ণালী মোড়, হেতেমখা ও লক্ষ্মীপুরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। কোথাও কোথাও হাঁটুসমান পানি। আটকে পড়ে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বৃষ্টি থামার কিছু সময় পর পানি নেমে গেলেও সকালজুড়ে ব্যাহত হয় স্বাভাবিক চলাচল।
বর্ণালী মোড় এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘রাজশাহীকে দেশের অন্যতম পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর শহর বলা হয়। কিন্তু একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি জমে যায়। তখন চলাচল করাই কষ্টকর হয়ে পড়ে। সময়মতো ড্রেন পরিষ্কার না করায় এই সমস্যা হচ্ছে।’
কলেজ শিক্ষার্থী আনিকা তাবাসসুম বলেন, ‘সামান্য বৃষ্টিতেই ক্লাসে যেতে সমস্যা হয়। রাস্তার পানি অনেক সময় ড্রেনের ময়লার সঙ্গে মিশে দুর্গন্ধ ছড়ায়। সিটি করপোরেশনকে এ সমস্যা সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে।’
প্রতিনিধি/এএইচ