Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

ফেনীর ঐতিহ্যবাহী দোস্ত টেক্সটাইল মিল নতুনভাবে চালুর উদ্যোগ

জেলা প্রতিনিধি

০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৫ এএম

ফেনীর কাজিরবাগ ইউনিয়নের রানীরহাটে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ‘দোস্ত টেক্সটাইল মিলস্ লিমিটেড’ পুনরায় চালু অথবা সেখানে নতুন আধুনিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের দাফতরিক কাজ শুরু হয়েছে। ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীনের আবেদনের প্রেক্ষিতে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

২৩ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ ও ‘সংসদ সদস্যগণের প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন সমন্বয় সেল’-এর সদস্য সচিব মো. উজ্জ্বল হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।

​চিঠি সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ আগস্ট ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন বন্ধ থাকা দোস্ত টেক্সটাইল মিলটি চালু করা কিংবা ওই জায়গায় নতুন টেকসই টেক্সটাইল বা শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি আধা-সরকারি (ডি ও) পত্র পাঠান।

​আবেদনের পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিবকে বিধিমোতাবেক পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে নেওয়া পদক্ষেপের অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠাতে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়। চিঠির অনুলিপি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দফতরেও পাঠানো হয়েছে।

4885ff6e-7912-4404-90eb-e76246d524f0

​দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এই টেক্সটাইল মিলটি নিয়ে নতুন করে উদ্যোগ শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে আশা জাগছে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, কারখানাটি পুনরায় চালু হলে বা এখানে নতুন শিল্প গড়ে উঠলে ফেনীতে বড় ধরনের কর্মসংস্থান তৈরি হবে ও সার্বিক অর্থনীতি নতুন গতি পাবে।

প্রসঙ্গত; ১৯৬৫ সালে স্থানীয় বেকার সমস্যার সমাধান ও অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে ফেনী সদর উপজেলার রানীরহাটে ২১.৪৭ একর জমির ওপর ব্যক্তি প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠে দোস্ত টেক্সটাইল মিলস। ১৯৭২ সালে এটি জাতীয়করণ করা হয় এবং ১৯৮১ সাল পর্যন্ত লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এখান থেকে বিদেশে সুতা রফতানি করা হতো। তবে চাহিদার আলোকে আধুনিকায়ন না করায় ১৯৯৩ সাল থেকে এটি লোকসানে পড়ে এবং অবশেষে ২০১১ সালে তা স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

​দীর্ঘদিন অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকায় সহস্রাধিক মানুষের কর্মের ঠিকানা এই মিলটি একসময় ‘ভুতুড়ে বাড়িতে’ পরিণত হয়। ২০২৫ সালের শুরুতেই কারখানার যাবতীয় মেশিনারিজ দরপত্রের মাধ্যমে স্ক্রেপ হিসেবে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

প্রতিনিধি/এসএস