জেলা প্রতিনিধি
০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৪ এএম
ঘুষের অভিযোগ জানাতে ‘ঘুষ.সাইট’ (ghush.site) নামে ওয়েবসাইট তৈরি করে আলোচনায় আসা ১৭ বছরের কিশোর শাহেদ শরীফ আহমেদের খোঁজ নিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন তার কার্যালয়ে শাহেদকে ডেকে নিয়ে কথা বলেছেন। এ সময় শাহেদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা প্রয়োজন কি না, তা নিয়ে আলোচনা হয়।
গত ২১ আগস্ট প্রয়াত শিক্ষিকা মায়ের পেনশনের টাকা তুলতে বিভিন্ন জায়গায় ঘুষ চাওয়ার অভিযোগের প্রতিবাদে ‘ঘুষ.সাইট’ তৈরি করেন শাহেদ। ওয়েবসাইটটিতে ঘুষের অভিযোগ জানাচ্ছেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ। ঢাকা মেইলে সোমবার এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর শাহেদের বাবাকে ডেকে তাঁর স্ত্রীর পেনশনের কাগজপত্র দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেয় ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়। এ ঘটনায় অনিয়মের সঙ্গে জড়িত দুই কর্মীকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া সোমবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে শাহেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় বলে জানান তিনি।
শাহেদের তৈরি ওয়েবসাইটে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেল চারটা পর্যন্ত ১১ হাজার ৬৬৬টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগে দাবি করা ঘুষের অর্থের পরিমাণ ৩৫৭ কোটি ২ লাখ টাকা।
সিটি প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠকের পর মো. রুকুনোজ্জামান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে থাকেন এমন একজন সোমবার রাতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি তাকে পাঠান। মঙ্গলবার তিনি শাহেদের সঙ্গে কথা বলেছেন। ‘ঘুষ.সাইট’ নিয়ে শাহেদের বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে।
রুকুনোজ্জামান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে এখনো কোনো বিশেষ নির্দেশনা আসেনি। বিষয়টি পাঠানোর পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা শাহেদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। সরকারের গবেষণা বা সংশ্লিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানকেও এ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করা যেতে পারে।
‘ঘুষ.সাইট’ উদ্যোগটির প্রশংসা করে তিনি বলেন, “রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য কিছু করতে চাওয়া এমন তরুণদের উৎসাহিত করা দরকার। শাহেদের মধ্যে আমরা সেই আগ্রহ ও স্পিডটা দেখেছি। সারা বাংলাদেশে জেনারেশন জেডের (জেন-জি) অনেক ছেলেমেয়ে আছে, যারা দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করতে চায়।”
সিটি প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে শাহেদ শরীফ আহমেদ বলেন, ‘ঘুষ.সাইট’-এর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং সরকার কীভাবে এ উদ্যোগে সহযোগিতা করতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সরকারের কাছ থেকে যেকোনো ধরনের সহযোগিতা পেলে তিনি উপকৃত হবেন।
শাহেদ বলেন, “আমি এখনো শিক্ষার্থী। পাশাপাশি ঘুষ.সাইট ও পড়াশোনা একসঙ্গে চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার অনুরোধ, কাজের চাপ কিছুটা কমানোর ক্ষেত্রে যদি কোনো ধরনের সরকারি সহায়তা বা সরকারি পর্যায়ের স্বীকৃতি পাওয়া যায়, তাহলে আমার জন্য কাজটি এগিয়ে নেওয়া সহজ হবে। এতে আমার লেখাপড়ার ওপরও চাপ কমবে।”
সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে যুগ্ম সচিব পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন বলে জানান শাহেদ। তিনি বলেন, ‘ঘুষ.সাইট’ নিয়ে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও এটি কীভাবে এগিয়ে নিতে চান, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তার মায়ের পেনশনের বিষয়েও জানতে চাওয়া হয়েছে।
এদিকে, শাহেদের মায়ের মৃত্যুর পর সরকারি পাওনা পেতে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি করেছে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যায় এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়। কমিটির প্রধান করা হয়েছে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিকদার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদকে। অন্য দুই সদস্য হলেন সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশীষ কুমার তরফদার ও মো. সাদ্দাম হোসেন।
তদন্ত কমিটির প্রধান সিকদার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, ‘ঘুষ.সাইট’ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের সার্বিক বিষয় খতিয়ে দেখতে কমিটি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মঙ্গলবার চিঠি দেওয়া হয়েছে।
আগামী বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হবে।
তদন্ত কমিটির নোটিশে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ সদর উপজেলার আজমতপুর পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আমেনা খাতুনের মৃত্যুর পর তার স্বামী মো. শরীফুল ইসলাম কেন যৌথ বিমা, কল্যাণ ভাতা ও দাফন-কাফনের অনুদান পাননি এবং এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়নি—এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নোটিশে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও সাক্ষ্য-প্রমাণসহ নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
প্রতিনিধি/এসএস