জেলা প্রতিনিধি
০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৩ পিএম
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে বিয়ের আশ্বাসে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক, অর্থ আত্মসাৎ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে মামলার কয়েক দিন পার হলেও এখনো অধরা অভিযুক্ত রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মহিপুর বাজার ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক রবিউল ইসলাম।
ফলে মামলাটির তদন্ত ও আসামিদের গ্রেফতার নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
গত ২৬ আগস্ট মামলার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। মামলায় চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম ছাড়াও সালেহীন আকন্দ নামে আরও একজনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ধর্ষণ, প্রতারণাসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
মামলার এজাহার ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি হওয়ার সুবাদে ওই শিক্ষিকার সঙ্গে চেয়ারম্যান রবিউল ইসলামের পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
শিক্ষিকার অভিযোগ, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে চেয়ারম্যান তার সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। একপর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষেও তাকে নিয়ে গিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করে ওই শিক্ষিকা চেয়ারম্যানকে বিভিন্ন সময়ে প্রায় তিন লাখ টাকা দেন। এমনকি চেয়ারম্যানের আশ্বাসে তিনি তার আগের সংসারও ভেঙে ফেলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে বিয়ের বিষয়ে চেয়ারম্যান টালবাহানা শুরু করলে তিনি প্রতিবাদ করেন। এ সময় তাকে ভয়ভীতি দেখানো এবং সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন ওই নারী।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো— শিক্ষিকার ব্যক্তিগত ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। মামলায় এ ধরনের অভিযোগের পাশাপাশি অর্থ নেওয়া ও হুমকির বিষয়ও উঠে এসেছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে অভিযোগগুলো সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশে করা হয়েছে বলে দাবি করেন।
এদিকে মামলা হওয়ার পর থেকে চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে। তিনি পরিষদে না থাকায় নাগরিকদের ভোগান্তি তৈরি হয়েছে মর্মে স্থানীয়দের অভিযোগ।
এছাড়া রবিউল ইসলাম একইসঙ্গে কলেজের প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে তার দীর্ঘ অনুপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস, পরীক্ষা, একাডেমিক পরামর্শ এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের পাঠদান কার্যক্রমে প্রভাব পড়তে পারে, এমন আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষিকা বলেন, ইতোমধ্যে আমার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। তবে এখনো রিপোর্ট পাওয়া যায়নি।
রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন বলেন, চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম ২০ দিনের ছুটিতে আছেন। পরিষদের নাগরিক সেবা আমিই দিচ্ছি।
মহিপুর বাজার ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা জানান, প্রভাষক রবিউল ইসলামের নারী ঘটিত বিষয়টি গণমাধ্যমে জেনেছি। তিনি এক মাসের ছুটিতে আছেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সৈয়দ মনিরুল হাসান বলেন, প্রভাষক রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি জানা নেই।
সাদুল্লাপুর থানার ওসি একেএম হাবিবুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তিনি ছুটিতে থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে এসআই আবু তালেব বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এক শিক্ষিকার দায়ের করা মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযানও চলমান আছে।
প্রতিনিধি/এএইচ