জেলা প্রতিনিধি
০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৪ পিএম
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার ১৭৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও নৈশপ্রহরীর সংকটে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এর মধ্যে ১০৮টি বিদ্যালয়ে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। আর ৭২টি বিদ্যালয়ে নেই নৈশপ্রহরী-কাম-দফতরি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষকশূন্য ১০৮টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৪৬টিতে সহকারী শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। বাকি ৬২টি বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয়ের দাফতরিক কাজ, বিভিন্ন সভায় অংশগ্রহণ, উপবৃত্তি ও সরকারি হিসাব-নিকাশসহ নানা কাজে প্রায়ই শিক্ষা অফিসে যেতে হয়। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকেরা এসব দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত থাকায় তাঁদের নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এতে ৪৬টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। অন্যদিকে, পুরোপুরি প্রধান শিক্ষকবিহীন ৬২টি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
এদিকে বিদ্যালয়গুলোর মাঠপর্যায়ের তদারকিতেও সংকট রয়েছে। নান্দাইল উপজেলায় বিদ্যালয় পরিদর্শনের জন্য আটজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিইও) থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ছয়জন। দুটি পদ শূন্য থাকায় কর্মরত কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত বিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। ফলে নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শন ও শিক্ষকদের পাঠদান মূল্যায়ন কঠিন হয়ে পড়েছে।
প্রধান শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি বিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। উপজেলার ১৭৮টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭২টিতে নৈশপ্রহরী-কাম-দপ্তরি নেই। দীর্ঘদিন ধরে এসব পদ শূন্য থাকায় রাতে বিদ্যালয়গুলো অরক্ষিত অবস্থায় থাকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিরাপত্তার এই দুর্বলতার সুযোগে বিভিন্ন বিদ্যালয় থেকে ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, সাউন্ড সিস্টেম, বৈদ্যুতিক ফ্যানসহ সরকারি সরঞ্জাম চুরির ঘটনা ঘটছে। এতে সরকারি সম্পদের ক্ষতির পাশাপাশি ডিজিটাল শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
এ বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফজিলাতুন্নেছা বলেন, ‘শূন্যপদের তালিকা নিয়মিত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হচ্ছে। নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে এই সংকট দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা করছি।’
প্রতিনিধি/এসএস