উপজেলা প্রতিনিধি
০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম
একটি সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে করা ১৫ কোটি টাকার মানহানি মামলার নয় বছর পর অবসান হয়েছে। মামলাটি খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। এতে স্বস্তি পেয়েছেন সাংবাদিক অপু খন্দকার।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ইসমাইল হোসেন মামলাটি খারিজের আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বাদীপক্ষের উপস্থাপিত তথ্যের ভিত্তিহীনতার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
২০১৭ সালে সাংবাদিক অপু খন্দকারের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন তৎকালীন ঢাকা-২০ (ধামরাই) আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালেকের স্ত্রী ও বাংলাদেশ মহিলা যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেত্রী মিনা মালেক। ১৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে করা ওই মামলায় সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে মানহানি করার অভিযোগ আনা হয়।
মামলা করার সময় অপু খন্দকার বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নাইন-এর জেলা প্রতিনিধি হিসেবে সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২০১৩ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকালে এসব এলাকার অনিয়ম, দুর্নীতি, জনদুর্ভোগসহ বিভিন্ন জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে তিনি সংবাদ প্রকাশ ও প্রচার করেন।
২০১৭ সালে তৎকালীন সংসদ সদস্য এম এ মালেকের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপরই অপু খন্দকারের বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়।
এরপর প্রায় নয় বছর ধরে মামলাটির আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। আদালতে হাজিরা, আইনি প্রক্রিয়া ও মামলার অনিশ্চয়তার মধ্যে কেটেছে এই সময়। এর মধ্যে তার কর্মস্থল ও দায়িত্বে পরিবর্তন এলেও মামলাটি চলছিল।
মামলা খারিজের পর সাংবাদিক অপু খন্দকার বলেন, ‘জনস্বার্থে সংবাদ প্রকাশ করা একজন সাংবাদিকের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমাকে প্রায় নয় বছর একটি মামলার আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। দীর্ঘ এই সময়ে মানসিক চাপ ছিল, পরিবারের সদস্যদেরও দুশ্চিন্তার মধ্যে থাকতে হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘মামলাটি খারিজ হওয়ার পর মনে হচ্ছে দীর্ঘদিনের একটি বোঝা নেমে গেল। আদালতের এই আদেশে আমি স্বস্তি পেয়েছি। সবচেয়ে বড় কথা, এত বছর পর ন্যায়বিচার পেয়েছি। একজন সাংবাদিক যখন জনস্বার্থে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির তথ্য তুলে ধরেন, তাকে যেন ভয় দেখিয়ে থামিয়ে দেওয়া না যায়—এটাই প্রত্যাশা।’
অপু খন্দকার বর্তমানে দৈনিক কালের কণ্ঠের মাল্টিমিডিয়া বিভাগে ঢাকা বিভাগের ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রতিনিধি/এসএস