জেলা প্রতিনিধি
০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২৬ এএম
মায়ের মৃত্যুর পর সরকারি প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা তুলতে গিয়ে একের পর এক দফতরে ঘুসের দাবির মুখে পড়েছিল পরিবার। নিজের পাসপোর্ট তৈরিতেও একই অভিজ্ঞতা ১৭ বছরের কিশোর শাহেদ শরীফ আহমেদ ঘুস নামক অপসংস্কৃতির প্রতিবাদ জানাতে তৈরি করেন ‘ঘুস ডট সাইট’। এ নিয়ে ঢাকা মেইলসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের দুই কর্মীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
নোটিশ পাওয়া দুজন হলেন— হিসাব সহকারী এ এইচ এম নাদিরুল হাসান সবুজ এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মুহাম্মদ মজিবুর রহমান।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে তাদের শোকজ নোটিশ দেন ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীন।
মনিকা পারভীন বলেন, কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো, তার কারণ লিখিতভাবে জানাতে দুজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তাদের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এর আগে সোমবার ‘ঘুস ডট সাইটে’ ব্যাপক সাড়া, পরিচয় গোপন রেখে তথ্য জানাচ্ছেন ভুক্তভোগীরা’ শিরোনামে ঢাকা মেইলে সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের পরই প্রয়াত শিক্ষকের স্বামী শরীফুল ইসলাম শামীমকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে ডাকা হয়।
বেলা ১১টার দিকে তিনি উপজেলা শিক্ষা অফিসে যান। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তিনি সেখানে অবস্থান করছিলেন।
শরীফুল ইসলাম বলেন, সংবাদ প্রকাশের পর সোমবার খুব দ্রুত কাজ হতে শুরু করেছে। আগের তৈরি নথিপত্র পরিবর্তন করে নতুন নথি প্রস্তুতের কাজ করা হচ্ছে। এটি করতে আরও কিছু সময় লাগবে। আশা করছি দ্রুত আমাদের পাওনা পেয়ে যাব।
শাহেদ শরীফ আহমেদ বর্তমানে ময়মনসিংহ ক্যান্টনমেন্ট এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বাবার সঙ্গে থাকে। ব্রিটিশ কাউন্সিলের অধীন কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনালের এ-লেভেলে পড়াশোনা করছে সে।
শাহেদের বাবা শরীফুল ইসলাম শামীম আগে সৌদি আরবের একটি ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন। তাদের গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার পূর্বপাড়া এলাকায়। শাহেদের মা আমিনা খাতুন ময়মনসিংহ সদরের আজমতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ছিলেন। ২০২২ সালের ১৬ ডিসেম্বর শারীরিক অসুস্থতায় তিনি মারা যান।
পরিবারের সদস্যরা জানান, চাকরির ১৩ বছরের মাথায় আমিনা খাতুন মারা যাওয়ার পর তার প্রভিডেন্ট ফান্ডের প্রায় ৭ লাখ টাকা তুলতে ঘুস দিতে হয়েছে। ট্রেজারি অফিসে ১০ হাজার টাকা, জেলা শিক্ষা অফিসে ২০ হাজার টাকা এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে ৮ হাজার টাকাসহ মোট ৩৮ হাজার টাকা ঘুস দিতে হয়। এ ছাড়া কল্যাণ তহবিলের ২ লাখ টাকা এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্য ৮ লাখ টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রেও শিক্ষা কার্যালয়-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এক লাখ টাকা ঘুস দাবি করেছিলেন বলে জানিয়েছে পরিবারটি।
ঘুসের এমন অভিজ্ঞতার পর প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে ঘুসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে শাহেদ ‘ঘুস ডট সাইট’ তৈরি করে। ওয়েবসাইটটির মাধ্যমে ঘুসের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরি এবং ঘুসের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে সে।
প্রতিনিধি/এফএ