জেলা প্রতিনিধি
৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি বলেছেন, শেখ হাসিনা যেভাবে দেশ থেকে বিদায় হয়েছেন, তা থেকে আমরা যদি শিক্ষা না নিই, তাহলে পরিণতি খারাপ হবে সবার। তাই বিগত সময়ে যা হয়েছে, তা আমরা কেউ কোনোভাবেই করতে চাই না।
রোববার (৩১ আগস্ট) বেলা ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার আইনশৃঙ্খলা, মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ এবং নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন, জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকি-সংক্রান্ত অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশ এবং জেলার উন্নয়নে সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের একসঙ্গে একযোগে কাজ করতে হবে। আমরা জনবান্ধব কাজ করতে চাই। এ জন্য স্বেচ্ছায় যার যার কাজ নিজ থেকে করতে হবে। আমরা সমন্বিতভাবে উন্নয়ন করতে চাই, আমাদের সরকারের দেওয়া নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন করতে চাই। এটি করতে পারলে জনগণ খুশি হবে। আর না করলে জনগণ মুখ ফিরিয়ে নেবে, বিরক্ত হবে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর দৈনন্দিন কর্মস্পৃহা প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দৈনিক ১৪ থেকে ১৮ ঘণ্টা কাজ করে থাকেন। তিনি যদি এভাবে পারেন, তাহলে আমরা কেন পারব না? এই প্রশ্নটি যদি নিজের বিবেককে আমরা করি, তাহলে আমরা কর্মস্পৃহা নিয়ে কাজ করতে পারব।
বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ের মনোভাব নিয়ে কাজ না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিগত সময়ে যা হয়েছে, তা আমরা করতে চাই না। ফ্যাসিস্ট আমলের চাকরি আর করা যাবে না। মন থেকে ওইসব বাদ দিয়ে নতুন করে কাজ শুরু করুন, আর যারা কাজ করতে চান না, তারা চাকরি ছেড়ে চলে যান। কাজ না করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা দেশকে উন্নত করতে চাই। বিগত সরকারের সময়ে দেশটাকে ভঙ্গুর করে দেওয়া হয়েছে। এটাকে সংস্কার করতে হলে নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে হবে। আমরা দেখছি, আমাদের প্রতিবেশী অনেক দেশ অনেক উন্নতি করছে, কিন্তু আমরা নেতৃত্বের অভাবে পিছিয়ে ছিলাম। এখন আমাদের প্রধানমন্ত্রী দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করছেন।
এ সময় তিনি প্রশাসনের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলেন, সারা দেশে মাদকের বিস্তার ঘটেছে। এর থেকে পরিত্রাণের উপায় খুঁজছি। মাদক নির্মূলে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আগামী প্রজন্মকে ভালো রাখতে হলে মাদককে ছাড় দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি জুয়া ও চোরাচালান বন্ধ করতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে হবে।
দেশে সার সংকট নেই জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে। স্থানীয়ভাবেও সারের কোনো সংকট নেই। তবে শম্ভুগঞ্জ সার গুদামটি সংস্কার করার দাবি জানানো হয়েছে। আমরা দ্রুত এটি সংস্কারের চেষ্টা করব।
এর মধ্যে সুসংবাদ হচ্ছে যে, অচিরেই সার ডিলার নিয়োগ হবে, টিসিবি ও ওএমএসের ডিলার নিয়োগ হবে এবং এ বছরের শেষের দিকে বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের একটি ব্যবস্থা হচ্ছে খুব দ্রুত। এর মধ্যে ১০ হাজার যুবককে বিনা মূল্যে পাঠানো যাবে, যারা অসহায় এবং নিগৃহীত। আর বাকি তিন লাখ পাঠানো হবে অল্প খরচে। আগে পুলিশে চাকরির জন্য ১০ লাখ টাকা লাগত, এখন সিস্টেম পরিবর্তন হয়েছে। এখন পুলিশের চাকরিতে টাকা লাগে না।
গ্যাস ও বিদ্যুৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে গ্যাস ও বিদ্যুৎ আমাদের ঝামেলায় ফেলে দিয়েছে। এই ঝামেলা আমরা বহন করছি, কিন্তু আমরা এটা করিনি। বিরোধী দল মাঝেমাঝেই গ্যাস ও বিদ্যুৎ নিয়ে আন্দোলন করছে। তারা বলেন, গ্যাস দিতে পারেন না, বিদ্যুৎ দিতে পারেন না, আপনারা সরে যান। এ রকম আন্দোলন করেন, সমস্যা নেই। কিন্তু আমরা সরে গেলে কী আপনারা এটার সমাধান দিতে পারবেন? পারবেন না। এটার জন্য সময় দরকার।
সভায় ময়মনসিংহে এলজিইডির উন্নয়নকাজগুলো ফেলে রাখার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ৩০টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীকে সাধুবাদ জানিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, আমাকে ময়মনসিংহ, শেরপুর এবং নেত্রকোনা জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে আমি খুশি হয়েছি। সারা দেশের সঙ্গে এই জেলাগুলোর উন্নয়নে আমি সর্বাত্মক চেষ্টা করব এমপি এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে। এ জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করছি।
সভায় জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ সদর আসনের এমপি আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, মুক্তাগাছা আসনের এমপি জাকির হোসেন বাবলু, ঈশ্বরগঞ্জ আসনের এমপি প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহহেল মাজেদ বাবু, গফরগাঁওয়ের এমপি আকতারুজ্জামান বাচ্চু, ফুলবাড়ীয়ার এমপি মোহাম্মদ কামরুল হাসান মিলন, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রুকুনোজ্জামান রোকন, পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান, মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শেখ আমজাদ আলী প্রমুখ।
এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রেজা মোহাম্মদ গোলাম মাসুম প্রধান ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক উম্মে হাবীবা মীরা যৌথভাবে সভাটি সঞ্চালনা করেন। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিবি ময়মনসিংহ সেক্টরের পরিচালক বায়েজিদ, র্যাব কর্মকর্তা শামসুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আসাদুজ্জামানসহ জেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা।
প্রতিনিধি/এআর