Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

হত্যার পর লাশে আগুন, ২১ বছর পর স্বামীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ

জেলা প্রতিনিধি

৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৪৪ পিএম

স্ত্রীকে হত্যার পর মরদেহ গুম এবং হত্যাকাণ্ডকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে মরদেহে আগুন দেওয়ার মামলায় মো. বশির নামে এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।

সোমবার (৩১ আগস্ট) ভোলার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২-এর বিচারক মো. এনায়েত উল্লাহ এ রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত বশির ভোলা সদর উপজেলার বাপ্তা ইউনিয়নের মুসাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০০৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা থেকে পরদিন ভোর সাড়ে ৩টার মধ্যে যেকোনো সময় বশির তার স্ত্রী বিলকিসকে নিজ বসতঘরে হত্যা করেন। ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত ও মরদেহ গুম করার উদ্দেশে বিলকিসের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে তার মুখ, গলা, ঘাড়, বুক ও পাঁজরসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে যায়।

স্ত্রীর মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের দুই সন্তান— ৯ বছর বয়সী খাদিজা খাতুন ও দেড় বছর বয়সী মো. ইমরানকে বাড়িতে রেখে পালিয়ে যান বশির। দীর্ঘ প্রায় ২১ বছর পলাতক থাকার পর ২০২৫ সালে তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য-প্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত বশিরকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

মামলার বাদী ছিলেন বিলকিসের এক মেয়ের পালক বাবা মোহাম্মদ খুরশিদ আলম। 

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মো. হাবিবুর রহমান (বাচ্চু)। আসামিপক্ষে ছিলেন অতীন্দ্র লাল ব্যানার্জী।

রায়ের পর আসামিপক্ষের আইনজীবী অতীন্দ্র লাল ব্যানার্জী বলেন, এ রায়ে আসামিপক্ষ ক্ষুব্ধ। তাদের মতে, রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিফলিত হয়নি। পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে। আপিলের প্রস্তুতিও চলছে।

প্রতিনিধি/এলএ