জেলা প্রতিনিধি
৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৩০ পিএম
রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজন হত্যা মামলায় সিদ্ধার্থ-মুগ্ধ দাসকে তিন দিনের মধ্যে যে কোনো দুই দিন তিন ঘণ্টা করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে আদালত।
এর আগে আদালতে তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে মেট্রোপলিটন চিফ ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতের বিচারক রফিকুল ইসলাম এ অনুমতি দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় নতুন কিছু তথ্য আসায় সেগুলো ক্রসচেক করার জন্য গ্রেফতার সিদ্ধার্থ-মুগ্ধ দাসকে রিমান্ডের প্রয়োজন। তাই আদালতের কাছে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। আদালতে বিষয়টি নিয়ে শুনানি হয়। শুনানিতে বিচারক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আমাদের কথাগুলো শোনেন এবং সন্তুষ্ট হয়ে তিন দিনের মধ্যে যে কোনো দুই দিন তিন ঘণ্টা করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।
এসময় আসামিদের লিগ্যাল আইনজীবীদের কথাও বিচারক শোনেন। আইনের বাধ্যবাধকতায় ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দিলে আসামিকে আর রিমান্ডে নেওয়ার সুযোগ নেই। তাই জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে আদালত।
তিনি আরও বলেন, এর আগে কারাগারে থাকা দুই আসামির নমুনা পরীক্ষা করার জন্য আদালতে ইউরিন, রক্ত, চুলসহ চারটি পরীক্ষার অনুমতির আবেদন করা হয়েছিল। আদালতের অনুমতি নিয়ে রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে নিরাপত্তাজনিত কারণে ডিবি পুলিশের একটি দল মেডিকেল টেকনোলজিস্টের সহযোগিতায় রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে দুই আসামির নমুনা সংগ্রহ করা হয়। রংপুর মেডিকেল কলেজের ল্যাবে শুধু ইউরিন পরীক্ষা হয়, যার কারণে শুধু ইউরিনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। সেই ইউরিনের নমুনা পরীক্ষায় এমফিটামিনের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ ডোপ টেস্টে তাদের শরীরে মাদকের কোনো উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।
গত ২২ আগস্ট নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় একই এলাকার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। একই ঘটনায় দুজন সাক্ষীও আদালতে জবানবন্দি দেন।
এর আগে পুলিশ জানিয়েছিল, ইয়াবা সেবন দেখে ফেলায় এবং সামাজিক সম্মানের ভয়ে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এরপর পরিবারের অন্য তিনজনকেও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এদিন সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস ৮-৯ ইয়াবা সেবন করেছিল বলে জানিয়েছিল পুলিশ।
প্রতিনিধি/এলএ