Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

তিন বছর আগে ২২ লাখে নির্মিত ভবন ভেঙে নতুন ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকার ভবন

জেলা প্রতিনিধি

৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৪২ এএম

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার খানুড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে তিন বছর আগে ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একতলা বিজ্ঞান ভবন ভেঙে সেখানে ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে চারতলা ভিত্তির ওপর নতুন একতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। গত ২৬ আগস্ট স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজ নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

মাত্র তিন বছর আগে নির্মিত ভবনটি ব্যবহারযোগ্য থাকা অবস্থায় ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, পুরোনো ভবন ও একটি টিনের ঘর ভাঙার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরগুলোকে জানানো হয়নি এবং টেন্ডার ছাড়াই সেগুলোর মালামাল বিক্রি করা হয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কয়েকজন জানান, নতুন ভবন নির্মাণের বিষয়টি তারা জানেন। তবে তিন বছর আগে নির্মিত বিজ্ঞান ভবন ভেঙে ফেলার বিষয়ে তারা অবগত নন।

জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে ইউজিডিপির অর্থায়নে এলজিইডির বাস্তবায়নে বিদ্যালয়টিতে তিনতলা ভিত্তির ওপর একতলা বিজ্ঞান ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ২২ লাখ ৩৪ হাজার ৫৫২ টাকা ব্যয়ে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর ২০২৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভবনটি উদ্বোধন করা হয়। পরে ঠিকাদার তা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, এলজিইডির প্রকৌশলী মিলন মিয়া ও ইউজিডিপির কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

নড়াইলে মরদেহের সঙ্গে অনৈতিক কাজের চেষ্টা, অ্যাম্বুলেন্সচালক আটক

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, নতুন একাডেমিক ভবনের জন্য জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়ায় প্রায় তিন মাস আগে পুরোনো বিজ্ঞান ভবন ও একটি জরাজীর্ণ টিনের ঘর ভেঙে ফেলা হয়। পরে গত ২৬ আগস্ট সেখানে ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে চারতলা ভিত্তির ওপর একতলা একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের প্রায় তিন মাস আগেই পুরোনো ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়। ভবন ভাঙার জন্য কোনো টেন্ডার হয়েছিল কি না, তা তারা জানেন না। তবে ভাঙা ভবনের মালামাল বিক্রির সময় মাইকিং শুনেছেন। সরকারি অর্থে নির্মিত ভবন ভাঙার ক্ষেত্রে যথাযথ অনুমোদন ও সরকারি নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে পুরোনো ভবনের মালামাল বিক্রির মূল্য ও সেই অর্থের হিসাব প্রকাশেরও দাবি জানান।

dcee02e7-4ca5-48db-9ad1-64b8286f7fe6

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর বলেন, স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সঙ্গে আলোচনা করেই প্রায় তিন মাস আগে পুরোনো ভবন ও একটি জরাজীর্ণ টিনের ঘর ভেঙে ফেলা হয়েছে। একাডেমিক ভবন নির্মাণের ছাড়পত্র পাওয়ার পর জায়গা সংকটের কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে ভবন ভাঙার বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন বা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসকে জানানো হয়নি বলে স্বীকার করেন তিনি। তার ভাষ্য, বিদ্যালয়ের বৃহত্তর স্বার্থেই ভবনটি ভাঙা হয়েছে।

তৎকালীন স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোতালেব হোসেন বলেন, “চেষ্টা করে একটি সংস্থার মাধ্যমে বিদ্যালয়ের জন্য ভবনটি আনা হয়েছিল। বিদ্যালয়ের বৃহত্তর স্বার্থে সেটি আবার ভেঙে ফেলা হয়েছে। এ জন্য তখন কারও অনুমতির প্রয়োজন মনে করিনি।”

গুরুদাসপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম আক্তার বলেন, “এ বিষয়ে আমি অবগত নই। কোনো মন্তব্য করতে পারব না। বিষয়টি ইউজিডিপি দেখভাল করবে।”

বর্তমান স্কুল এডহক কমিটির সভাপতি রনি আহমেদ বলেন, তিনি দেড় মাস আগে সভাপতির দায়িত্ব নিয়েছেন। তার দায়িত্ব নেওয়ার আগেই ভবনটি ভাঙা হয়েছে। তার জানা অনুযায়ী, ভবনটি তিন-চার বছর আগে নির্মাণ করা হয়েছিল।

গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ বলেন, “বিদ্যালয়ে একটি ভবন ছিল, তা জানি। তবে ভবনটি ভাঙার বিষয়ে আমি জানি না। কেউ আমাকে অবগত করেনি।”

প্রতিনিধি/এসএস